জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে এগিয়ে আছে ছাত্রনেতা তুষার

জাহাঙ্গীর আলম: দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় না থাকায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি এর দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। মূল দলের বাইরের অঙ্গসংগঠনগুলোতেও বর্তমানে একই অবস্থা। তাই নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের জেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠন গুলোকে চাঙ্গা করতে এর মধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি এর কেন্দ্রীয় কমিটি। বিগত কিছুদিন পূর্বে গঠিত জেলা বিএনপি এর আংশিক কমিটিতে দেখা গেছে রদ বদল। এবার নতুন করে গঠিত হচ্ছে জেলা ছাত্রদল এর কমিটিও। ইতিমধ্যেই নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গিয়েছে।

জানাগেছে, এববারের কমিটিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি পৃথক প্যানেল প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পৃথক প্যানেল দুটির মধ্যে একটিতে সভাপতি পদে মুন্সিগঞ্জর শহর ছাত্রদলের সি: সহ-সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বলিষ্ঠি ছাত্রনেতা শফিকুল হাসান তুষার ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রস্তাব করা হয়েছে শ্রীনগর উপজেলার ছাত্রনেতা মামুন এর নাম। আরেকটি প্যানেল থেকে সভাপতি পদ প্রত্যাশী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক জাসাস নেতা মোজাম্মেল হক মুন্না, সাধারন সম্পাদক পদ প্রত্যাশী বর্তমান জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক সরকারী হরগঙ্গা কলেজের সাবেক এজিএস হুমায়ন।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে দলীয় কার্যক্রম তথা অন্যান্য বিচেচনায় একদিকে সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান নেতা কর্মীরা সর্মথন যখন শফিকুল হাসান তুষার এর পক্ষে অন্যদিকে গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা জাসাস নেতা মুন্নার ছাত্রদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে জেলার ছাত্রদল তথা বিএনপি জুড়ে চলছে নানা সমালোচনার ও বিতর্ক। মুন্না জাসাস এর সাবেক নেতা হলেও সে ইতিপূর্বে কখনো ছাত্রদলের রাজনীতি অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ করে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ স্থানীয় কয়েক জন ছাত্র নেতা জানায়, বিগত আন্দোলনে তাকে স্পষ্ট ভাবে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময় যারা ছাত্রদল এর জন্য গুরতর অবদান রেখেছে তাদের উপক্ষা করে জাসাস নেতা কে সভাপতি করা ঠিক হবে না।

ছাত্রদলের কর্মকান্ড ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জানতে চাইলে বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জসিম ও হরগঙ্গা কলেজের সাবেক ভিপি শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, মুন্না কে সভাপতি পদ দেওয়া হলে ছাত্রদল পিছিয়ে পরবে। সে জাসাস করতো ছাত্রদলের কর্মকান্ড সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। তুষার ছাত্রদলের সাথে বহু পূর্ব থেকেই আছে বর্তমানে শহর শাখার অন্যতম নেতা সে। তাছাড়া সুশৃংখল, ত্যাগী ছাত্রনেতা হিসাবে ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের পরিচিত মুখ তুষার। সভাপতি পদে দলে তার গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে।

ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে জেলা বিএনপি কয়েকজন নীতিনির্ধারক জানায়, তুষারদের পরিবার দীর্ঘদিন যাবত বিএনপি এর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে । তার চাচা বিএনপি নেতা নোয়াব আলী ৪বার মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার ছিলেন । তার বড় ভাই কামাল হোসেন ২বার একই পৌরসভার কমিশনার ও প্যানল মেয়র এর দায়িত্ব পালন করে । তুষারের পরিবার যেমন বিএনপি এর জন্য কাজ করছে পারিবারিক সূত্রে জন্ম থেকেই বিএনপি রাজনীতির পরিবেশে বড় হয়ে উঠা তুষার ছাত্রদলের জন্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে । এদিকে মুন্না বিএনপি কর্মী হলেও তার কোন মুন্সিগঞ্জের নেতাদের সাথে তার তেমন কোন সম্পর্ক নেই। বিচ্ছিন্ন কাউকে নেতৃত্বে রাখলে ছাত্রদলের রাজনীতি পিছিয়ে পরবে বলে আশংকা প্রকাশ করছে বিএনপির একাদিক নেতা।

সভাপতি পদে প্রতিদন্ডিতা নিয়ে তুষারের বলেন, দলের জন্য দীর্ঘ সময় কাজ করেছি। দলের ভাল মন্দে পাশে ছিলাম। এখন কেন্দ্রীয় নেতারা যা ভাল মনে করে তাই হবে।

জাসাস থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগদান ও সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাদিক বার যোগযাগ করার চেষ্টা করা হলেও মুন্না এর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে ।

সার্বিক বিবেচনায় জেলা ছাত্রদলের নতুন মেরুকরন এর এই চূড়ান্ত পর্যায় ছাত্রদলের নতুন নেতা হিসাবে শফিকুল হাসান তুষার কেই এখন দেখতে চায় দলের নেতা কর্মীরা। নেতা-কর্মীদের সমর্থনে সভাপতি পদে তুষারের এগিয়ে থাকার বিষয় এখন স্পষ্ট। অন্য কাউকে পদ দেওয়া হলে সংগঠনটি আরো ঝিমিয়ে পড়বে তথা দীর্ঘসময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতৃত্ব কে অবহেলা করা হবে বলে মনে করছে সংগঠটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা।

বিক্রমপুর চিত্র