টঙ্গীবাড়ীতে পুলিশের হামলায় অন্তস্বত্ত্বা গৃহবধূসহ ৫ নারী আহত

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তস্তিপুর গ্রামে আসামী গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের হামলায় এক স্কুল ছাত্রীসহ একই পরিবারের ৫ নারী আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাগেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তস্তিপুর গ্রামের রহিম হাওলাদারের বাড়িতে টঙ্গীবাড়ী থানা এসআই সোহেল এর নেতৃত্বে অভিযান চালায় পুলিশ।

এ সময় রহিম হাওলাদারের ছোট ভাই কবীর হাওলাদার বাড়ির পাশের বাগানে আম পারতে ছিলেন পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজন ও মহিলারা পুলিশকে বাধা দেয়।

এ সময় টঙ্গীবাড়ী থানার কনেষ্টোবল মিজানসহ পুলিশের ৪ সদস্য তাদের সাথে থাকা বন্ধুকের বাট দিয়ে পারভিন বেগম (৩৫), ৫ মাসের গর্ভবতী ফারজানা (২২), বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী জান্নাত আক্তার, শিমু বেগম (২২) আরফিনা আক্তার (২০) কে বেদরকভাবে পিটিয়ে আহত করে এবং অন্তস্বত্বা ফারজানা ও শিক্ষার্থী জান্নাত আক্তারের পড়নের সেলোয়ার কামিজ টেনে হিচরে ছিড়ে ফেলে তাদের কিল, ঘুশি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।

এতে ফারজানার ডান পায়ের হাটুতে ক্ষত হয় এবং জান্নাতের মাথা ফেটে যায়। আহতদের মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পারভিন বেগম (৩৪) জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক দেড়টার সময় টঙ্গীবাড়ী থানা থেকে একটি পুলিশের টিম তাদের বাড়ি তস্তিপুরে আসেন। রাতের অন্ধকারে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে পারভিন বেগমের ঘরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে দরজা খুলে দেয়ার জন্য বলেন। এ সময় পারভিন বেগম তার ঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ঘরের বাইরে বেড়িয়ে আসেন।

পুলিশ ঘর থেকে তার স্বামী রহিম হালাদারকে বাইরে বেরুতে বলেন এবং ঘরের দরজা খুলে দিতে বলেন। পারভিন বেগমের ডাক চিৎকারে বাড়ির আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জানতে চায় আসামী গ্রেফতার করার কি প্রমান তাদের কাছে আছে। এমন সব প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি থানা পুলিশ। রাত দুইটায় রহিম হাওলাদারকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ চলে আসে। পরে পূর্ণরায় শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ওই ৫ নারীকে পিটিয়ে আহত করে পুলিশ। এলাকাবাসি জানান, রহিম হাওলাদার গংদের পিতা মৃত পন্ডিত হাওলাদারের বসত বাড়িটি ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে অবৈধভাবে দখল নিতে চেষ্টা করছেন স্থানীয় ভূমি দস্যু মোহাম্মদ আলী খান, আলমগীর দেওয়ানসহ কতিপয় ভূমি দশ্যূ।

এর জের ধরে আলমগীর দেওয়ান এর ভাতিজা শামীম দেওয়ানের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে টাকা পয়সা দিয়ে রহিম হাওলাদারসহ তার পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করান। এ ব্যাপারে সেলিনা বেগম জানান, রহিম হাওলাদার, কনিক হাওলাদার, রণিসহ ৭ জন তার কাছ হতে গত ১৭ মে বিকাল ৩টার দিকে ১লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে সে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

তবে তার মানিত স্বাক্ষীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ওই ঘটনা তারা সেলিনার মুখে শুনেছেন কেউ দেখননি।

অভিযোগ রয়েছে গত দুই বছর যাবত ভূমিদস্যু মোহাম্মদ আলী গং প্রতিনিয়ত টাকা পয়সা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে ভূক্তভোগী পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এস আই সোহেল জানান, তারা আসামী গ্রেফতার করার জন্য তস্তিপুর গ্রামে গিয়েছিলেন এ সময় মহিলারা এগিয়ে এসে বাকবন্ডিতা শুরু করলে আসামী পালিয়ে যায়।

বিক্রমপুর চিত্র

Comments are closed.