একজন মুজিব পরদেশী ও রিচার্ড মার্ক্স

বাংলাদেশে সবাই যখন রিচার্ড মার্ক্স এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ তখন এই প্রবাসে বসে আমি ভাবছিলাম বারবার সেই একই সময়ের আমাদের দেশের শিল্পী মুজিব পরদেশীর কথা। তার গান এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে ছেলেবেলায় শুধু বিয়ে বাড়ির মাইক এবং রাস্তাঘাটের দোকানে দোকানে শুনেই প্রায় সব গান মুখস্ত হয়ে গিয়েছিলো। রিচার্ড মার্ক্সরা বিশ্ব তারকা হলেও বাংলাদেশের মাত্র হাতে গোণা কয়েকটি পরিবারের ড্রয়িংরুমে বাজতেন। মুজিব পরদেশীর বন্দী কারাগারে এ্যালবামটি সেই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ লাখের বেশি। ধরা যাক প্রতিটি এ্যালবাম ৩৫ টাকা বিক্রি হলে তখন আনুমানিক ২২ টাকা লাভ থাকতো প্রযোজকের। সেই হিসেবে খরচ বাদে ১৩ কোটি টাকার গান বিক্রি হলেও হলেও এই শিল্পী জানালেন ঐ অ্যালবাম বাবদ কোনও টাকা নেননি তিনি। প্রযোজকের প্রতি তাৎক্ষণিক সম্মান ও ভালোবাসা থেকে তিনি টাকা না নিলেও পরবর্তীতে তার অভাব ও সংসারের খরচ কি থেমেছিলো?

দুর্দান্ত গীতিকার, সুরকার, গায়ক, হারমোনিয়াম-তবলা বাদক ও সঙ্গীত পরিচালক এই শিল্পীকে আমরা মুল্যায়ণ করেছি নাকি অবহেলা তার বিচার কবে করবো আমরা? মিডিয়া ও সঙ্গীত ব্যাবসায় প্রযোজকের প্রধান কাজ থাকে যখন যার চাহিদা তাকে দিয়ে টাকা বানিয়ে নেয়া। শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার দিনশেষে না খেয়ে মরলেও ব্যাবসায়ীর কিছু এসে যায় না। মিডিয়া সংবাদ ছাপায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শহীদ মিনারে জানাজার ব্যবস্থা করেন আর হালের কিছু সংবাদ চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার। হঠাৎ কোনও জমকালো অনুষ্ঠানে কোনও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হয়তো তার পরিবারের কাউকে ডেকে আজীবন সম্মাণনার অপ্রাসঙ্গিক পুতুল ধরিয়ে দিয়ে ধন্য করে দেয়া হবে। নিভে যাবে আরও একটি তারা।

আজকে যারা তার গান ভুল কথা ও সুরে গেয়ে বাজারে বিক্রি করছেন তাদেরও দায়বদ্ধতার নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে এই সাক্ষাৎকার দেখার পর। ভিডিও সৌজন্য এটিএন নিউজ।

প্রীতম আহমেদঃ কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক

কালের কন্ঠ

Comments are closed.