হারিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের ঘুড়ি উড়ানো উৎসব

মাহবুব আলম জয় : প্রাচীন সভ্যতার এই জনপদ মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরে এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল ঘুড়ি উড়ানো। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ হতে আয়োজন করা হতো ঘুড়ি উড়ানো উৎসব। বিভিন্ন গ্রাম মহল্লায় বিভিন্ন বয়সীদের দেখা যেত নাটাই সুতা ও ঘুড়ি নিয়ে এক সাথে প্রাণের বন্ধনে মিলিতি হতে। কিন্ত পর্যাপ্ত মাঠ না থাকায় এখন দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জের ঘুড়ি উড়ানো উৎসব। শৈশবে সুতা কাটা ঘুড়ির পিছু ছুটেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গ্রামে যারা বেড়ে উঠেছেন তাদের প্রত্যেকের স্মৃতিজুড়ে এখনো হয়তো ঘুরপাক খায় রঙ্গিন সব ঘুড়ি। বেসাতী, ড্রাগন, ডেলটা, মাছরাঙা, ঈগল, ডলফিন, অকটোপাস, সাপ, ব্যাংঙ, মৌচাক, কামরাঙ্গা, পেচা, ফিনিক্স, পালতোলা নৌকা, জাতীয় পতাকা আকৃতির নানান ও বিচিত্রসব ঘুড়িতে আকাশ ছেঁয়ে গিয়েছিল। লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ, সবুজ নানান রংঙের ঘুড়িতে বর্ণীল হতো আকাশ।

ঘুড়ি প্রেমি কাজল সিকদার বলেন, আমাদের গ্রাম বাংলায় যেসব খেলাধুলা রয়েছে তার মধ্যে ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম একটি খেলা। তবে সময়ের পর্যায়ক্রমে এটি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে পৌষের শেষ থেকে পুরো বসন্তকে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় মৃদুমন্দ বাতাস ঘুড়ি উড়ানোর জন্য উপযোগী হওয়ায় এ সময়টাকেই ঘুড়ি উড়ানোর জন্য বেছে নেয় ঘুড়িপ্রেমীরা।

মুন্সীগঞ্জের পদ্মার পাড়ে কয়েক বছর আগে ব্যাপক ভাবে আয়োজন করা হয়েছিল জাতীয় ঘুড়ি উৎসব। সেখানে মুন্সীগঞ্জের মানুষের ভীড় ছিল লক্ষণীয়। মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার কাগজীপাড়া গ্রামে ঘুড়ি বানানোর কাগজ তৈরিরকরা হয়। তা দেশের বিভন্ন জায়গায় রফতানি করা হয় বলে জানান একাধিক ঘুড়ি কাগজ বিক্রেতা। বিভিন্ন রং দিয়ে তারা ঘুড়ির কাগজ তৈরি করে থাকেন।

ঘুড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সাদা কাগজের পাশাপাশি নানা ধরনের রঙিন কাগজও ব্যবহার করা হয়। মো. জুয়েল সরকার জানান, এক সময় ঘুড়ি উড়ানো বেশ দেখা যেত কিন্তু এখন বিনোদনের অন্যতম এই খেলাটি হারিয়ে যাচ্ছে। দশম শ্রেনীর ছাত্র রাকিব বলেন, ঘুড়ি উড়ানো উৎসব অনেকদিন হয়েছে দেখিনা। তবে মাঝে মাঝে কয়েক টা ঘুড়ি উড়তে দেখি।

মো: জহিরুল ইসলাম জানান, মুন্সীগঞ্জের মানুষের অনন্য প্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছিল ঘুড়ি উড়ানো এখন তেমন ঘুড়ি উৎসব দেখা যায় না। বিশিষ্ট জনদের মতে মুন্সীগঞ্জ সেই ঘুড়ি উড়ানো উৎসব ফিরিয়ে আনতে হলে উদ্যোগ নিতে হতে হবে আরো এবং মাঠ গড়ে তুলতে হবে। তবে মুন্সীগঞ্জে শিশুরা এখনো ঘুড়ি উড়ায় কিন্ত নেই আগের মতো কোনো প্রতিযোগিতা।