সিরাজদিখানে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নিলেন সভাপতি

রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে উঠে তখন সে এলাকার মানুষ খুবই অসহায় হয়ে পড়ে। ভক্ষক রূপের সে মানুষটি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানের মালখানগর ইউনিয়নের ফুরশাইল গ্রামের প্রাক্তন মেম্বার মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন। মুক্তিযোদ্ধা কথাটা পুজি করে তিনি ও তার পরিবার গ্রামের মানুষদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছেন। তিনি সমাজের অনেক অনৈতিক কাজের সাথে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। তার স্ত্রী শাহিদা বেগম ফুরশাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

সভাপতি হওয়ার পিছনেও রয়েছে উপর মহলের ইন্ধন। কিন্তু নামে মাত্র সভাপতি বানিয়ে পুরা কলকাঠি নাড়েন তারই স্বামী আফজাল হোসেন। স্কুল কমিটি কে না জানিয়ে তিনি ১৪ মে রবিবার স্কুলের দুইটি গাছ কেটে বিক্রয় করেন। কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলে আফজাল হোসেন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও জানান এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীকে তিনি জানান, আমি যা চাই তাই ই করতে পারি। কেউ কিছু বলতে আসলে তার খবর আছে। নিজেকে অসীম ক্ষমতাবান মনে করেন তিনি। সেই গাছ কাটার ব্যাপারে ফুরশাইল গ্রামের বর্তমান মেম্বার হারুন অর রশিদ জানতে চাইলে আফজাল হোসেন তার উপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে মারধর করে।

হারুন মেম্বার নিজেও ওই কমিটির একজন সদস্য। অভিভাবক ও কমিটির লোকজন সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে স্কুল ফান্ড এর টাকার ও হিসাবপত্র তারা স্বামী স্ত্রী রাখেন। মিটিং এ বসলে কারও মতামত ছাড়াই সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অনেকবার মোবাইলে চেষ্টা করেও আফজাল হোসেনকে পাওয়া যায়নি।

মালখানগর ইউপি চেয়ারম্যান সানজিদা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় আমার পরিষদের হারুণ মেম্বার প্রতিবাদ করিলে হারুণ মেম্বারকে সভাপতির স্বামী আফজাল হোসেন শারীরিক নির্যাতন করেন।

এ প্রসঙ্গে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা আপনার নিকটই প্রথম শুনলাম। আমি আগামীকাল সরে জমিনে তদন্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিব।

ক্রাইম ভিশন