কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ শুরু

কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে সাড়ে ৩০০ মেগাওয়াটের একটি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজির কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর-ষোলআনী মৌজায় ৩৩০ দশমিক ৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে এরই মধ্যে জমির মালিক ও ভোগদখলকারীদের কাছে ৩ ধারা অনুযায়ী জারি করা নোটিশ পেঁৗছে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। জমি অধিগ্রহণ করতে শতাংশপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৮২৮ টাকা। তবে স্থানীয়দের একাংশ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে রুলাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গজারিয়ার জমির মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশে বলা হয়, ওই এলাকায় জমির শ্রেণিভিত্তিক মূল্য শতাংশপ্রতি অনেক কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের বাস্তবভিত্তিক মূল্য পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্য নির্ধারণ কমিটির বক্তব্য হচ্ছে- গজারিয়ায় অধিগ্রহণাধীন বেশিরভাগ জমির রকম নাল। প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১৮ হাজার ৩৩১ টাকা। তবে কমিটি জেলার অন্য এলাকায় সরকারের চলমান কয়েকটি প্রকল্পের জমির মূল্য বিবেচনায় নিয়েছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জমির মূল্য এবং একই উপজেলার যশলদিয়ায় ঢাকা ওয়াশার পানি শোধনাগার প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব বিবেচনায় গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের জমির মূল্য ১৮ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করে অতিরিক্ত আড়াইগুণ বেশি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতি শতাংশ জমির সর্বোচ্চ মূল্য দাঁড়াবে ৪৫ হাজার ৮২৮ টাকা। তবে ব্যক্তিমালিকানা ছাড়া সরকারের যেসব খাস জমি আছে, সেসব খাসজমি বন্দোবস্ত আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হবে।

এদিকে সরেজিমন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গজারিয়ার মেঘনার তীরে সাড়ে ৩০০ মেঘাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইমামপুর, রসুলপুর, দৌলতপুর, ষোলআনী, বাঘাইকান্দি ও কালীপুরা গ্রামের স্থানীয় জনসাধারণের একাংশ। এখানকার আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সুবিধাভোগী জনপ্রতিনিধির অনেকেই এ দাবির পক্ষে। প্রকল্প বাতিল করার দাবিতে তাদের নেতৃত্বে এলাকাবাসী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা মো. কলিমউল্লাহর নেতৃত্বে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও মতবিনিময় করে। ‘জীবন দেব, তবু জমি দেব না’ এই স্লোগান ধারণ করে উপজেলা এবং রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করে। জমির মালিকদের দাবি, আগেই শিল্প প্রতিষ্ঠানে ভরা গজারিয়ায় এখন ওষুধ শিল্পপার্ক ও গার্মেন্ট পল্লী বাস্তবায়নে কাজ শুরু হওয়ায় শিগগির এ উপজেলার যে কোনো জমির মূল্য প্রতি শতাংশ দুই থেকে তিন লাখ টাকা হবে। এ মুহূর্তে সরকার অনেক কম মূল্যে অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করায় জমির মালিকদের ওপর অবিচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক জমির মালিক।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প এলাকার সামাজিক উন্নয়ন তহবিল গঠন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১৫ অনুসরণ করা। প্রকৃত বাড়ির মালিকদের তিন কাঠা জমির ওপর এক হাজার বর্গফুটের সেমিপাকা টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্থানীয়দের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, খেলার মাঠ, পুকুর, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ ও আবাসনের ব্যবস্থা করা। বর্গাচাষি কৃষকের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প এলাকার মানুষ যাতে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়, সে ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গজারিয়ার ইউএনও সাইফুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের জন্য সার্ভে জরিপ সম্পন্ন হওয়ার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রেরণ করা ৩ ধারা অনুযায়ী জমির মালিক ও ভোগদখলকারীদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সমকাল

Comments are closed.