টেংগারচরে সোহেল হত্যার জের ধরে বসতঘরে ভাঙচুর

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার কারণে ডিস র‌্যাবসায়ী সোহেল রানা প্রধান (২৪) হত্যাকান্ডের জের ধরে অব্যাহত ভাঙচুর লুটপাট চলছেই। স্থানীয় ও লুটপাট,ভাঙচুরের শিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে টেংগারচর গ্রামের নাসির উদ্দিন প্রধানের ছেলে সোহেল প্রধান খুন হওয়ার ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার রাত আনুমানিক আটটায় নিহত সোহেল প্রধানের ভাই বুলবুল আত্বীয় দেলোয়ার হোসেন,সলীম,কলিম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আতœীয় ফারুক,শরীফ ও মহসিনের নেতৃত্বে দশ থেকে বারো জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই গ্রামের আদনান মিয়ার বাড়ির দুটি বসত ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় আদনান মিয়ার প্রবাসী ছেলে কেফায়েত মিয়ার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী ও শিশুসহ পাঁচজনকে আহত করে ঘরে থাকা নগদ টাকা,স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে।

লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার আদনান মিয়ার স্ত্রী ও তাসলিমা ও সন্তান সম্ভবা পুত্রবধু শিরিন আক্তার অভিযোগ করেন, আমারা রাতের খাবার গ্রহণের প্রস্ততি নেয়ার সময় উল্লিখিত লোকজন আমাদের বসত ঘরের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে শিরিনের আট বছর বয়সী ছেলে সিয়াম ও ভাগ্নে ফরহাদের গলায় ছুড়ি ধরে শিরিনকে আলমারী ও ওয়াটড্রপের চাবী দিতে বাধ্য করে দৃর্বৃত্তদল। আদনানের পরিবার দাবী করে তাদের দুটি বসত ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে।

গৃহকর্তী তাসলিমা বেগম জানান, আমরা গ্রামের হত্যার ঘটনায় কোন পক্ষের সাথেই জড়িত না। আমাদের দোষ আমি মোল্লা বাড়ির মেয়ে এবং আমার দুই ছেলে প্রবাসী আমাদের বাড়িতে হানা দিয়ে অনেক লুটপাট করা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,টেংগারচর গ্রামে নিয়মিত পুলিশ প্রহরা থাকলেও গত কয়েক দিনে একাধিক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে গ্রামে ঢোকার পথে দেখা হলো গ্রামের থাকা একদল পুলিশ সদস্যের সাথে গজারিয়া থানার পরিদর্শক(তদন্ত) ও সোহেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: হেলাল উদ্দিনের সাথে তিনি জানান, গ্রামটি অনেক বড় ও বিস্তৃত হওয়ায় এক স্থানে পুলিশ থাকলে অন্য জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটে যায়। সোহেলর মা হত্যা মামলা বাদী সুফিয়া বেগম ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএম সালাহউদ্দিন মাষ্টার তাদেও লোকজন আদনান মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন।

গজারিয়া থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা আদনান মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর শুনে তাৎক্ষনিত ঘটনাস্থল পরিদর্মন করেছি তারার লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা রজু করা হবে।

বিডিলাইভ

Comments are closed.