টঙ্গিবাড়ীতে নদী রক্ষা বাঁধ হুমকিতে

পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজার থেকে চিত্রকড়া গ্রাম পর্যন্ত নির্মিত বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধটি। ইতিমধ্যে বাঁধের ব্লক খুলে গিয়ে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেলে উত্তাল ঢেউ ও স্রোতের তোড়ে রক্ষা বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজার থেকে চিত্রকড়া গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, শুষ্ক মৌসুমে এলাকার ভূমিদস্যুরা নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। ফলে বাঁধের ব্লক সেটিং বিনষ্ট হয়ে গেছে। এতে বর্ষা মৌসুম এলেই পদ্মার উত্তাল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্ক রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের চিত্রকড়া গ্রামের সেরাজউদ্দিনের ছেলে অপু শেখ পদ্মা নদীর তীরে রক্ষা বাধ ঘেঁষে মাটি কেটে বিশাল গর্ত করে ফেলেন। এতে বাঁধের বেশ কিছু ব্লক খুলে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সহিদুল হক পাটোয়ারী সোমবার রাতে সমকালকে জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। আগামীকাল খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নদী রক্ষা বাঁধ তদারকি ও মেরামত কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রেদোয়ান আহমেদ জানান, বাঁধ ঘেঁষে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কি করণীয় সে বিষয়ে নির্বাহি প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আউয়াল মিয়া সমকালকে বলেন, একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সার্ভেয়ার পদ্মা নদী রক্ষা বাঁধ এলাকায় পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। যারা বাঁধ এলাকায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সমকাল