পদ্মা সেতুর সবচেয়ে বড় পিলারের পাইলিং সবার আগে শেষ হলো

মোঃ রুবেল ইসলামঃ মূল পদ্মাসেতুর ৪২,তম পিয়ার এর পাইলিং কাজ শেষ হলো। পদ্মা বহমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর সর্বমোট ৪২ টি পিয়ার তা যথাক্রমে পিয়ার ১ থেকে. পিয়ার ৪২ পর্যন্ত। পিয়ার ৪২ এ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ১২ টি ,০৩ মিটার ব্যাসের পাইল ডিজাইন করে। পরবর্তীতে ঝড়রষ এর ভিত্তিতে ১২ টির পরিবর্তে ১৬ টি ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ০৩ মিটার ব্যসবিশিষ্ট পাইল কনস্ট্রাকশনের সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ঠিকাদার ০৬ মাস পূর্বে কাজ শুরু করে। প্রথম ০৩ টি পাইল তৈরির পর আবারও ৪ হাজার ৫শ টন লোড প্রয়োগ করে ৪৫ দিন ধরে টেস্ট করে সফল হয়। তারপর অবশিষ্ট পাইল কনস্ট্রাকশন শুরু হয়। আজ পি-৪২ এর ১৬ টি পাইলই শেষ হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রকল্পর মূল কাজের

মূল পাইলিং ও নদীশাসনকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে। নতুন গতিপেয়ে এই পর্যন্ত । এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি ঢাকাকে যুক্ত করবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে সেতুর দুই প্রান্তে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে।২০১৮ সালের মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। নিজস্ব অর্থায়নে এটি এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। এই সেতু হলে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল। এই সেতুতে ট্রেনও চলবে।

এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবেও সেতুটি ব্যবহৃত হবে। অর্থ নীতিবিদেরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।পদ্মা সেতু ঘিরে হংকংয়ের আদলে নগর গড়ার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। মাওয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক হবে। সেই নিরসন প্রভাবে কাজ চলছে এখন রাজধানীর বিজয়নগর থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে হবে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালসড়ক।সরেজমিনে গত কয়েক দিন পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া ও জাজিরার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। দেশি-বিদেশি হাজারো শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের ব্যস্ততা।

প্রকৌশলীরা বললেন, এত দিন পরীক্ষামূলক পাইলিং হলেও এবার মূল পাইলিং। চলছে ,পদ্মা সেতুর মূল কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বলেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৪২ শতাংশ কাজ হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলার থাকবে ৪২টি। এর মধ্যে ৪০টি পিলার থাকবে নদীর ভেতরের অংশে। দুটি থাকবে দুই প্রান্ত সংযোগ সেতুতে। নদীর ভেতরের ৪০টি পিলারের প্রতিটিতে ৬টি করে পাইল করা হবে। এ জন্য মোট ২৪০টি পাইল করতে হবে। সংযোগ সেতুর দুটি পাইলে ১২টি করে ২৪টি পাইল করতে হবে।দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পদ্মা সেতু।

১৯৯৮-৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা সেতুর নকশার জন্য পরামর্শক নিয়োগ করা হয়। তবে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে গেলে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয়। ২০১৪ সালের জুন মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজের সঙ্গে এই সেতু নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২৬ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কর্তৃপক্ষ চীনের প্রথামতো মাওয়ায় পদ্মার পাড়ে দুটি গরু, দুটি ছাগল ও দুটি মোরগ জবাই করে সেগুলোর রক্ত নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে। তার ৮মাস পর সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন হয়।

Comments are closed.