৯ মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গনহত্যা দিবস

জসীম উদ্দীন দেওয়ান: ৯ মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যা করে গজারিয়া উপজেলার ৩৬০ জন নির¯্র সাধারণ মানুষদের। হায়নার ছোবল থেকে সেদিন বেঁচে যাওয়া শহীদ পরিবারগুলো আজও বয়ে বেড়াচ্ছে সেই দিনের দু:সহ স্মৃতিগুলো। এখানকার শহীদ পরিবার গুলোর দাবি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও সামাজিকভাবে ও কাগজে কলমে মিলেনি মুক্তিযুদ্ধের কোন সম্মান। তবে এবার এসকল পরিবারের সদস্যদের সম্মানিত ও তালিকা ভুক্ত করার আশ্বাস থানা কমান্ডারের।

লাশের মিছিলের দৈর্ঘ্য কতোটুকু বাড়ানো যায়। এমন অমানুষত্বের চিন্তায় মাতাল ছিলো পাকহানাদার বাহিনী। সেই পশুত্বের মন বুকে ধারণ করে গজারিয়া হতে মুক্তিকামী মানুষদের নিংশেষ করতে ৭১এর ৯মে রোববার ভোরের সূর্য ওঠার আগে বাঙ্গালী হত্যার নেশায় মেতে ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। একই সময় আকস্মিক হামলা চালিয়ে মেঘনা পাড়ের নয়ানগর, কাজীপুরা, ইস্মানীর চর, বাশগাঁও এবং ফুলদী নামের ৫টি গ্রামের ৩৬০ জন নারী-পুরুষকে হত্যা করে তারা। কোন রকম দাফন-কাফন ছাড়াই গণকবর দেয়া হয় শহীদদের লাশগুলো। ৪৫ বছর ধরে বুকের ভিতর স্বজন হারানো কষ্ট ও বেদনা নিয়ে আজও দিন কাটাচ্ছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এই দিনে গনহত্যার শিকার ১০৩ জন শহীদ ও ১১ জন যুদ্ধাহতদের তালিকা টানিয়ে গজারিয়া ইউনিয়নের গোসাইরচর এলাকায় স্মৃতি ফটক বা শহীদদের স্মরনে স্মৃতি স্তম্ভ বানানো হলেও, সেখানে বহু নামের ঠাঁই মিলেনি বলে দাবি শহীদ পরিবারের লোকদের। কারো পরিবারের এক মাত্র রোজগারের অবলম্বন, আবার কোন পরিবারের একাধিক রোজগারের অবলম্বনদের গুলি করে হত্যা করে নি:শেষ করে দেয় রুটি রোজগারের সব পথ। অভাব অনটনের ভিতর এতোগুলো বছর কাটালেও, দেশের জন্য সব হারানো মানুষগুলোর অনেকেই আজও পায়নি কোন প্রকার সম্মান ও মর্যাদা। তবে প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধদের যাচাই বাচাই করে এদের সম্মান জানানোর আশ্বাস দিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলাম।

একটি রীটের কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারীতে বন্ধ হয়ে যায় এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাচাইয়ের কাজটি। তবে যাচাই বাছাইয়ের কাজ যেদিনই চুড়ান্ত করা হোকনা কেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত হবার পাশাপাশি উদ্দ্যোগ নিতে হবে শহীদ পরিবারের সকলকে বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থার।