প্রতিহিংসার কারণে যাত্রাবাড়ীতে ঝর্ণা খুন

যাত্রাবাড়ীর একই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের (৪২) প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ঝর্ণা আক্তার (গত বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল) খুন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যামামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিলাল হোসেন। বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের জঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার জেসমিন আক্তার ও তার সহযোগী মো. মিলন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসির আহসানের আদালতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিলন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জেসমিন ও মো. মিলন জানিয়েছেন, একই ফ্ল্যাটে থাকতেন জেসমিন আক্তার (৪২) ও ঝর্ণা আক্তার। জেসমিন আক্তারের প্রেমিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এতে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ঝর্ণাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন জেসমিন। আর এতে সহায়তা করেছেন জেসমিনের বেয়াই মো. মিলন (৩৮)।’

গ্রেফতার মিলন আদালতে স্বীকজবানবন্দি দিয়েছেন উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেসমিনকে ৩ দিনের রিমান্ড নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।’

ময়লার স্তূপের পাশে বিছানার চাদর পেঁচানো ঝর্ণা আক্তারের লাশ

এদিকে পুলিশের ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, জেসমিন আক্তার ও ঝর্ণা আক্তার যাত্রাবাড়ীর শনটেক ইশাখা রোডের একটি সাত তলা বাড়ির নিচতলায় গত ছয়মাস ধরে বসবাস করতেন। জেসমিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল দেলোয়ার নামের এক যুবকের। ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। সম্প্রতি ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গেও তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ঝর্ণা আক্তারকে খুন করার পরিকল্পনা করেন জেসমিন। পরিকল্পনা অনুযায়ীই বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে বেয়াই মিলনকে ফোন করে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি। এরপর পরিকল্পিতভাবে দু’জন মিলে ঝর্ণা আক্তারকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। সন্ধ্যার পর লাশ বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ময়লার বস্তার মতো করে বাইরে নিয়ে যান তারা। প্রথমে মাথায়, পরে রিকশায় করে শনির আখড়া ব্রিজের পাশে নিয়ে যান লাশ। ব্রিজের ওপর ময়লার স্তূপের পাশে ফেলে তারা দু’জন মুন্সীগঞ্জের গ্রামের বাড়ি চলে যান।’

ইফতেখারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘তাদের দু’জনকে ঢাকার বাসায় না পেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তারা শুরুতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও একপর্যায়ে সব কথা স্বীকার করেন।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর শনির আখড়া ব্রিজের ওপর ময়লার স্তূপের পাশে চাদরে মোড়ানো একজন নারীর লাশ উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। লাশ শনাক্তের পর ঝর্ণার ফুফাত ভাই নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ২৯ এপ্রিল একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বুধবার (৩ মে) মুন্সীগঞ্জের মুড়াইতলী থেকে জেসমিন আক্তার ও তার সহযোগী মো. মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.