টোকিওতে সাড়ম্বরে পালিত হলো বৈশাখী উৎসব ২০১৭

টোকিওতে সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-উত্তর বৈশাখী উৎসব ২০১৭। আর এই উৎসবটির আয়োজন করেছিল রংধনু তরুণ সংঘ, জাপান নামের একটি সামাজিক সংগঠন। এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন, দ্বিতীয় আয়োজনে তারা ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হন।

২৩ এপ্রিল ’১৭ টোকিওতে কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া বুনকা সেন্টার-এ আয়োজিত বৈশাখী উৎসব ২০১৭ তে প্রবাসীদের ঢল নামে। পরিণত হয় এক মিলন মেলায়। একদল উদ্যোগী তরুণের আহ্বানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের প্রবাসীরা অংশ নিয়ে সাড়া দেন। তিন শতাধিক অতিথি রংধনুর আপ্যায়নে আপ্যায়িত হন।

আর আপ্যায়িত হবেনই না বা কেন? বাংলাদেশে পালিত বৈশাখী উৎসবের আদলে এবং গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যে খাবারের মেন্যু সাজানো ছিল। পছন্দমাফিক সবাই তার প্রিয় খাবার উপভোগ করতে পেরেছেন। ভোজনপর্ব শেষে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনটি ছিল আকর্ষণীয়। ভোজন পর্ব এবং সাংস্কৃতিক বা বিনোদন পর্বের মাঝামাঝি সোহেল জাহিদের বাংলাগানের কারা ওকে সবাই উপভোগ করেন।

বিনোদন পর্বটি পরিচালনা করেন কামরুল আহসান জুয়েল। শুরুতে রংধনুতে এক ঝাঁক তরুণ সদস্য নিজেরা নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরেন। এরপর সভাপতি রাসেল মাঝি এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল সালাউদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে তারা বলেন, ‘রংধনু’ তরুণদের নিয়ে গঠিত একটি সামাজিক সংগঠন। এখানে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন বর্ণের, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার এমন কি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক রয়েছে। বিভিন্ন ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই রংধনুর সদস্য। এখানে সবাই এক, নেই নেতৃত্বের কোন্দল, নেই রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার অযথা তর্ক। জাপানে যেহেতু আমরা বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত এবং একইভাবে বাংলাদেশেও যেহেতু জাপান প্রবাসী হিসেবে পরিচিত তাই আমরা এখানে সবাই এক।

তারা আরও বলেন, রংধনু যেহেতু একটি সামাজিক সংগঠন তাই সামাজিক কর্মকা-ের পাশাপাশি জাপানে বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে তুলে ধরাই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশেও আমরা শীতবস্ত্র বিতরণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের অবদান হয়তো ছোট কিন্তু সদিচ্ছার কমতি নেই। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই। আর আমাদের এই সংগঠনটি ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেই রংধনু আত্মপ্রকাশ করে। আপনাদের সহযোগিতা এবং সংগঠনটি ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসেই রংধনু আত্মপ্রকাশ করে। আপনাদের সহযোগিতা এবং সমর্থন থাকলে ইনশা আল্লাহ আমরা আরও ভালো ভালো কাজের কর্মসূচি হাতে নিতে পারব। সেই সঙ্গে জাপান প্রবাসীদের যে কোনো আয়োজনে রংধনুর সদস্যরা বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আপনারা দয়া করে আমাদের ডাকবেন।

এরপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রংধনুর অগ্রযাত্রার শুভ কামনা করে এবং অভিনন্দন জানিয়ে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করে। অতিথিদের শুভেচ্ছা শেষে বর্তমানে জাপান সফরত একদা জাপান প্রবাসী জনাব রুবেল হোসেন মনজুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রংধনুর পক্ষ থেকে।

বক্তব্য প্রদান শেষে শুরু হয় বিঙ্গো গেইম, বিঙ্গো গেইম-৩ আকর্ষণীয় পুরস্কার দেয়া হয়। এ ছাড়াও পুরস্কার দেয়া হয় হরেক রকম ভর্তা বানানোর জন্য আতিয়া ইসলাম মিথুনকে।

সব শেষে বাবু ঢালীর পরিচালনায় স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি সঙ্গীত পরিবেশন করে, শিল্পী তানভির, রকদল, সুমী চৌধুরী, মুহিত, বাবু ঢালী সঙ্গীত পরিবেশন করে।

সর্বশেষে সভাপতি রাসেল মাঝি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক