জিডি’র তদন্তে গিয়ে ইউপি সদস্যের কাছে লাঞ্চিত হলেন পুলিশ!

জসীম উদ্দীন দেওয়ান: মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের সমালোচিত সেই শরীফ মেম্বার ও তাঁর পরিবাবের হাতে এবার কর্তব্য পালনরত অবস্থায় লাঞ্চিত হলেন টংগিবাড়ি থানার এ এস আই শাহজালাল।

জানা যায়, ২৮ এপ্রিল এলাকাবাসী বাচ্চু শেখকে বটতলা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন শরীফ মেম্বার ও তাঁর তিন ভাই মিলে। এই ঘটনার জেরে একই দিনে বাচ্চু শেখ টংগিবাড়ী থানায় হুমকি দাতাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী করলে, ত্রিশ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঘটনার তদন্তে যায় এ এস আই শাহজালাল। সে সময় শরীফ মেম্বার ও পরিবারের সদস্যরা চড়াও হয়ে ওঠে তদন্ত কর্মকর্তা শাহজালালের উপর। এ এস আই শাহজালালের হাতে থাকা তদন্তের কাজে ব্যবহৃত কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায গালিগালাজ করে, শরীফের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (শিলা) ও শরীফের কয়েকজন ভাই ও ভাতিজা মিলে।

এ এস আই শাহজালাল জানান, আমি সেখানে কেন গিয়েছি সেই ব্যাপারে কৈফিয়ত চান শরীফ, তাঁর উপস্থিতিতেই বাচ্চু শেখকে মারধর করার চেষ্টা চালায় শরীফ ও শরীফের পরিবারের সদস্যরা এবং শরীফ এই এস আইকে শিক্ষা দিয়ে দিবেন বলেও হুমকি প্রদান করেন বলে জানান সে। এই ঘটনাটি তাৎক্ষনিক তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেনকে জানিয়েছেন।

আইনী কাজে বাঁধা দেয়ার অপরাধে শরীফ গংদের আটক না করে চলে এলেন কেন? জানতে চাইলে শাহজালাল বলেন, সে পরিবেশ বা পরিস্থিতি তাঁর ছিলোনা তবে ছিনিয়ে নেয়া কাগজটি উদ্ধার করেছে বলে জানান তিনি। ঘটনা স্থলে উপস্থিত থাকা আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াড মেম্বার মো. হোসেন জানান, পুলিশের সাথে শরীফ ও তাঁর পরিারের এমন জঘন্য আচরণ জন প্রতিনিধিদের ভবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে, তাই আমি শরীফের এই ঘটনাসহ সকাল অপকর্মের নিন্দা জানাই।

আইনজীবি মাহমুদা আক্তার কনিকা বলেন, শরীফ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে আইনী কাজে বাঁধা দেবার অপরাধে শরীফের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে ৩৩২/ ৩৩৩ ধারা মামলা রুজু করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, আইনের লোক যেখানে শরীফের কাছে নিরাপদ নয়, সেখানে স্বর্ব সাধারণের নিরাপত্তাটা প্রশ্নবিদ্ধ।

এলাকাবাসী আব্দুল রউফ জানান, শরীফ এতোই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যে ওর কাছে সবায় যেন জিম্মি। শরীফ চায় ওর অনুমোতি ছাড়া আব্দুল্লাহপুরবাসী একটা কদমও যেন না ফেলে। শরীফের নানামুখি হুমকির অভিযোগ এনে একই এলাকার মো. হায়দার আলী বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩০ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় একই অভিযোগ এনে ১৭ এপ্রিল শরীফদের বিরুদ্ধে টংগিবাড়ী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন নুর ইসলাম মাওলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বর্তমান মেম্বার শরীফ হোসেন, এর আগে বিস্ফোরক ও নারী নির্যাতন মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামী ছিলেন এবং এসব মামলায় জেল হাজতও খেটেছেন এই শরীফ।

Comments are closed.