শ্রীনগরে জাল দলিল সম্পাদনের অভিযোগে সাব রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে মামলা

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে জাল দলিল সম্পাদনের অভিযোগে সাব রেজিষ্ট্রার সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন চট্রগ্রামের খুলসী এলাকার বাসিন্দা সায়েরা আক্তার (৪৮) নামে এক নারী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাকিরাপাড়া এলাকার গনি বেপারীর মেয়ে সায়েরা আক্তার পৈত্রিক সূত্রে বীরতারা মৌজায় আরএস ৯৮ খতিয়ানের ৪৪৪ দাগের ৬৯ শতক নাল জমির মালিক হন। আদালতের আদেশ অনুসারে ভাই বোনদের মধ্যে বন্টন হওয়ার পর তিনি তার জমি ২০০৭ সালে নিজের নামে নামজারি করে নেন। তিনি পরিবারিক ভাবে চট্রগ্রামের খুলশী এলাকায় বসবাস করেন। কিছু দিন পূর্বে জমির খাজনা দেওয়ার জন্য ষোলঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন এ জমি তারই অপন বোন ঢাকার বাসিন্দা সাহানা আক্তার রোলিং নামজারি করে নিয়েছেন। তৎক্ষনাৎ তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে ছুটে আসেন এবং নামজারির নথি দেখে নিশ্চিত হন তার বোন ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর শ্রীনগর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত ৮১২৬ নং হেবা দলিলের মাধ্যমে নামজারি করেছেন।

এতে দাতা হিসাবে সায়েরা আক্তার ও সনাক্তকারী হিসাবে তার স্বামী কাজী জহিরুল কবিরকে দেখানো হয়েছে। পরদিন তিনি উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে গেলে মূল দলিলটি তার সামনে বের করা হয়। এতে দাতা এবং গ্রহীতার নামের পাশে সায়েরার বোন রোলিং এরই দুটি ছবি দেখতে পান। এসময় সাব রেজিষ্ট্রারের খাস কামরায় উপস্থিত উপজেলার বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদার সহ অন্যান্যরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। সাবরেজিষ্ট্রার বিলাল উদ্দিন আকন্দ দলিলটির লেখক মহিউদ্দিনকে তার কক্ষে ডেকে আনেন। মহিউদ্দিন সবার সামনে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েন।

গত মঙ্গলবার সায়েরা আক্তার তার বোন সাহানা আক্তার রোলিং, রোলিংয়ের স্বামী মো: মোস্তফা, জাল দলিলের স্বাক্ষী পাকিরা পাড়া গ্রামের আলিমদ্দিনের ছেলে উজ্জল, দলিল লেখক মহিউদ্দিন ও সাব রেজিষ্ট্রার বিলাল উদ্দিন আকন্দের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৯১/২০১৭। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন বিলাল উদ্দিন আকন্দ বাড়তি অর্থের বিনিময়ে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করেছেন। সায়েরা আক্তার বলেন, তিনি এবং তার স্বামী গত দুই বছরে শ্রীনগরে আসেননি। হেবা দলিলে স্বাক্ষর করার প্রশ্নই আসেনা। দলিল লেখক মহিউদ্দিন জানান, সাব রেজিষ্ট্রার বিলাল উদ্দিন আকন্দ আমাকে দলিলটি লিখে দিতে বলায় আমি তা লিখে দিয়েছি। উপরের চাপ থাকায় দাতা-গ্রহীতা একজন হওয়ার পরও আমি কিছু বলতে পারিনি।

অপর একটি সূত্র জানায় শ্রীনগর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রায়ই কিছু অসাদু দলিল লেখকের যোগ সাজশে সাব রেজিষ্ট্রার এরকম কাজ করে থাকেন। টাকা পেলে তিনি দাতা-গ্রহিতার দিকে চোখ তুলে তাকানও না। বাড়তি অর্থের দিকে নজর রেখেই স্বাক্ষর করেন। তবে বিলাল উদ্দিন আকন্দ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন একই ব্যাক্তি কিভাবে দাতা-গ্রহীতা সেজে দলিল রেজিষ্ট্রি করেছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

Comments are closed.