মোল্লাকান্দিতে আ’লীগের দু’পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে এবং গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও একাধিক বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিরোধ এবং আধিপত্য বজায় রাখা ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার মোল্লার পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্টেম্ফারণ ও গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

গ্রামবাসী জানায়, সোমবার রাতের ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ফরহাদ খানের কর্মী-সমর্থকরা চরডুমুরিয়া, কংসপুর ও আমঘাটা গ্রামে প্রতিপক্ষ আজাহার মোল্লা পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তারা ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটায় ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় অস্ত্রধারীরা আমঘাটা গ্রামে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্টেম্ফারণ ও ভাংচুর চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ পরিস্থিতিতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোসণ্ডা মোল্লা এবং তার ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাহার মোল্লার কর্মী-সমর্থকরা প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় দু’পক্ষই হামলা-পাল্টা হামলা চালায়।

সরেজমিন মোল্লাকান্দির বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দু’পক্ষই নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান করছে।

মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী মহসিনা হক কল্পনা সমকালকে জানান, এলাকার বর্তমান অবস্থা মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসকে জানানো হয়েছে।

ফরহাদ খান বলেন, আজাহার মোল্লার কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়ে তার ভাই আক্তার খান ও কামাল খানকে মারধর করে। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তার পক্ষের লোকজনকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করে দেয়।

আজাহার মোল্লা বলেন, মঙ্গলবার সকালে ফরহাদ খানের কর্মী-সমর্থকরা ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটিয়ে ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আকস্মিক চরডুমুরিয়া, কংসপুরা ও আমঘাটা গ্রামে হামলা চালায়।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইউনুচ আলী জানান, সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমকাল

Comments are closed.