মোবাইল ফোনে সখ্যতা গড়ে গাইবান্ধার ২ ব্যবসায়ীকে শ্রীনগরে এনে অপহরণ

৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবীর ২ দিন পর উদ্ধার
আরিফ হোসেন: মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে গাইবান্ধার ২ পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে অপহরণ চক্রের সদস্য শ্রীনগরের রনির সাথে। প্রায় ৬ মাস ধরে চলে ফোনালাপ। কয়েকদিন পূর্বে তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয় শ্রীনগরে আসার জন্য। গত শুক্রবার সকালে ২ ব্যবসায়ী বেড়ানোর জন্য শ্রীনগরে আসেন। দেখা করেন রনির সাথে। রনি তাদেরকে চা-কফি দিয়ে আপ্যায়ন করান। এরপর প্রস্তাব করেন বাসায় যাওয়ার। ব্যবসায়ীরা নতুন মেহমান হিসাবে ফল-মুল কিনে রনির বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সায় উঠেন। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন একটি ৬ তলা বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে। তখননো তারা বুঝতে পারেননি তাদের জন্য আপ্যায়নের বদলে অপেক্ষা করছে নির্যাতন।

অপহরণকারী রনি

আগে থেকেই ফ্ল্যাটে অপেক্ষা করছিল রনির আরো ৫ সহযোগী। ফ্ল্যাটে ঢুকে কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্যাবসায়ী হারুন অর রশিদ (৪৮) ও আনোয়ারুল ইসলাম (৪৬) কে রশি দিয়ে বেধে ফেলা হয়। এর পর তাদের মুখে টেপ লাগিয়ে শুরু হয় নির্যাতন। এর কিছুক্ষন পর তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সন্ধ্যার পরে তাদের টাকায়ই ওই ফ্ল্যাটে বসানো হয় মাদকের আসর। মাদক সেবন করে অপহরণ কারীরা আনোয়ারুল ও হারুনের শরীরে সিগারেটের আগুনের সেক দিতে থাকে। মুখের টেপ খুলে তাদের কান্না শুনানো হয় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ছিট মনোহরপুর ও পুটিমারি গ্রামের আতœীয় স্বজনদের। মুক্তিপন দাবী করা হয় ৫০ লাখ টাকা। তিন ঘন্টার দেন দরবারে ৬ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় তাদের স্বজনরা। প্রাথমিক খরচ বাবদ ওই দিনই ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বললে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে ২২ হাজার ৫ শ টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই দিন রাত নয়টার দিকে বিষয়টি পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হলে তিনি শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেনকে অবহিত করেন।

শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে শ্রীনগর থানার সেকেন্ড অফিসার আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে মাঠে নামে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে শ্রীনগর চকবাজার এলাকার প্রয়াত সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম তুলুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রনিকে। তার দেওয়া তথ্য অনুসারে পুলিশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন হালিম মাষ্টারের বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। এসময় রনির কাছ থেকে মুক্তিপনের ১০ হাজার ৫শ টাকা ও বিকাশ একাউন্টে রক্ষিত ১২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। রনির পুরো নাম জীবন ইসলাম রনি। সে উপজেলার দয়হাটা টেক্কা মার্কেট এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।

এসআই আতিকুর রহমান জানান, আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার দুপুরে অপহরনের মূল পরিকল্পনাকারী রনিকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রনির সহযোগী অপহরণ চক্রের আরো ৫ সদস্যকে খুজে বেড়াচ্ছে পুলিশ।

ব্যবসায়ীরা সোমবার দুপুরে শ্রীনগর থানার সামনে সাংবাদিকদের সামনে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড দিয়ে পেটানোর জখম ও সিগারেটের আগুনের সেকের চিহ্ন দেখিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন বলেন, চক্রটির বাকি সদস্যদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Comments are closed.