ছেলের চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন মা!

থেলাসেমিয়া রোগে ভোগছে মুন্সীগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের শিশু আহাদ
জসীম উদ্দীন দেওয়ান: জন্মের ছয় মাস পর থেকেইে থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার কুড়িবাড়ি সংলগ্ন পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিন মজুরে মোবারক হোসেনের ছেলে আব্দুল আহাদ। আহাদের চিকিৎসা ভার বহন করতে যেয়ে সাড়ে তিন বছরে ধার দেনার র্জজরিত হয়ে পরেছে পরিবারটি। ছেলের চিকিৎসা আর সংসার চালানো নিয়ে দিশেহারা পরিবারটির দাবি সমাজের বৃত্তশালীদের সাহায্যের

চার বছরের শিশু আহাদ, সাড়ে তিন বছর ধরে শরীরে বহন করে চলছে থেলাসেমিয়া নামের ভয়ঙ্কর এই রোগটি। থেলাসেমিয়া রোগের আক্রমনে শরীরের রক্তশূন্য হয়ে পরা, জ্বর আসা, তার সাথে রয়েছে পেটফুলে গিয়ে খাদ্যে অরুচির বিষয়টিও। আর এসব থেকে রক্ষা পেতে প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর অন্তর আহদের শরীরে দিতে হয় এক ব্যাগ করে রক্ত। ঢাকা যেয়ে ছেলের শরীরে রক্ত ভরা ,তার সাথে চলে প্রতিদিন কয়েকটি করে ওষুধ। এর জন্য প্রতিমাসে গোনতে হয় আট থেকে দশ হাজার টাকা। এই টাকা জোগাড় করা দু:স্বাধ্য হয়ে পরেছে দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে। এর উপর আহাদকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছুদিন পর লিভারে অস্র পাচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন মোবারক হোসেন। মোবারক আরো জানান, এই অপারেশনের জন্য গোনতে হবে আরো কয়েক লাখ টাকা।

কমলাঘাটের একটি চটের দোকানে মজুরি হিসেবে বস্তা সেলাইয়ের কাজ করে মোবারক, বিনিময়ে মাসে রোজি সাত থেকে আট হাজার টাকা । অভাব অনটনে ছেলের চিকিৎসা আর ঠিক মতো সম্ভব হচ্ছেনা তাই বুকের মানিককে নিজের কাছ থেকে দুরে রেখে , ছেলের চিকিৎসা ব্যয়ে কিছুটা যোগান দেবার আশায়, ধার দেনা করে ১৯ দিন আগে বুকে পাষান বেঁধে কুয়েত পাড়ি জমান মা ডলি বেগম। আর অসুস্থ্য আহাদের মায়ের অভাব পুরণ করার চেষ্টা করেন, আশি বছর বয়সের দাদি মাজেদা বেগম এবং চাচি লায়লা বেগম। লায়লা বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, সে কোথাও যেতে নিলে সারি টেনে ধরে রাখে আহাদ। এসময় আহাদ ভীত স্বরে জানতে চায় মায়ের মতো চাচিও কোথাও চলে যাচ্ছে কিনা ?

আহাদের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ,সাময়িকভাবে এ দেশে আহাদের চিকিৎসা হলেও , উন্নত চিকিৎসার জন্য আহাদকে নেবার প্রয়োজন দেশের বাইরে, সে ক্ষেত্রে দরকার বড় অংকের টাকার। যার জন্য প্রয়োজন সমাজের হৃদয়বান বৃত্তশালীদের বাড়িয়ে দেয়া হাত। মোবারকের এক মাত্র সন্তান আহাদকে চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচাতে, আর্থিক সাহায্য পাঠাতে কারো দয়া হলে একটি ব্যাংক হিসাব খোলেছেন মোবারক। মোবারক হোসেন, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৭১০১০১০০৪৬৩৫। সোনালী ব্যাংক-রিকাবী বাজার শাখা, মুন্সীগঞ্জ। মোবারকের মোবাইল নাম্বার ০১৯২২৪৪৯৩৩৭

Comments are closed.