সিরাজদীখানে ওয়াশব্লক নির্মাণে প্রকৌশলীর পুকুরচুরি

সিরাজদীখানের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্মিত ওয়াশব্লক ও নলকূপ স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এ স্থাপনায় নিয়োগকৃত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০১৪ অর্থবছরে উপজেলায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯টি ওয়াশব্লকের কাজ পায় আল-জুবায়ের ট্রেডার্স। প্রতিটি ওয়াশব্লকের জন্য প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়। সে হিসাবে ১৯টি ওয়াশব্লকের প্রায় ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কাজ পায় আল-জুবায়ের ট্রেডার্স। যোগসাজশের মাধ্যমে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৯টি কাজ দেওয়া এবং সিরাজদীখান উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের যোগসাজশ থাকায় ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে ফেলেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বাদল আহম্মেদ বলেন, এগুলো শেষ করতে সময় লাগে। তবে বাকি কাজ জুনের মধ্যে শেষ করা হবে। নিম্নমানের কোনো সামগ্রী ব্যবহার হয়নি। সব সঠিকভাবেই হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০টি ওয়াশব্লকের কাজ পায় মার্স কসরদিয়াম নামে একটি ঠিকাদারি কোম্পানি। এখানে প্রতিটি ওয়াশব্লকের জন্য প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ব্যয় ধরা হয়। প্রায় ২০টি ওয়াশব্লকের প্রায় ৯০ লাখ টাকা টেন্ডার হয়েছিল। প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ওই ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে আংশিক বিল উঠিয়ে নিলেও ২০টি ওয়াশব্লকের কাজই এখন পুরোপুরি বন্ধ আছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে ওয়াশব্লকের অসম্পূর্ণ কাজ আর চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে’একটা মিটিংয়ে আছি’ বলেই তিনি ফোন রেখে দেন। পরে ফোন দিলে বলেন, ভাই আপনি আমার ভাই। এত কথার দরকার নেই। আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব বলেই তিনি ফোন রেখে দেন।

সমকাল

Comments are closed.