সিরাজদিখানে প্রকাশ্যে জোড় করে নিরিহ মানুষের ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়

থানায় অভিযোগ
মোঃ রুবেল ইসলাম: বসতভিটার কিছু দূরেই ফসলি জমি। ধানখেতে সবুজের সমারোহ। চাষ করা হয়েছে ধান, পুই শাখ,ধঞ্চে ডাটা,লাউ,কুমড়াসহ বিভিন্ন শস্য। এসব খেতের পাশেই অনেক জমি পাঁচ-সাত ফুট নিচু। সেখান থেকে যন্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে জোড় করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এই চিত্র মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের চন্ডিবর্দ্দি মৌজার খিদিরপুর ও রামকৃষ্ণদী গ্রামের। গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল নিরিহ মানুষের ফসলি জমি থেকে প্রকাশ্যে জোড় করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায় । গ্রামের বসতভিটার পাশে ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ বিঘা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। জমির মালিকদের অনুমতি না নিয়ে জোরজবরদস্তি করে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রামবাসী। এ বিষয়ে স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী লতব্দী ও বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব রামকৃষণদী গ্রামের। সেখানেও ৫০ বিঘা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের মৃত অফিলদ্দিন সরকারের ছেলে মোঃ পলাশ সরকার। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুই মাস ধরে চন্ডিবর্দ্দি গ্রামের মৃত এমনে সাইদ লক্ষনের ছেলে মোঃ জহিরূল নামের এক ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে খিদিরপুর গ্রামের মৃত হাজী হোসেন জামান সরকারের ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ মোজ্জাম্মেল হোসেন পিন্টু,মোঃ আওলাদ হোসেন সেন্টু,মোঃ মাহবুব হোসেন রন্টু, লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের মৃত অফিলদ্দিন সরকারের ছেলে মোঃ পলাশ সরকার ,মোঃ আশরাফ হোসেন ঝন্টুর ফসলি জমির মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী রামকৃষ্ণদী গ্রামের নিজের ইট ভাটায় ও এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাদের জমির মাটি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

খিদিরপুর গ্রামের মৃত আফিলদ্দিন সরকারের ছেলে মোঃ পলাশ সরকার বলেন, ১৯৭০ ইং সাল থেকে চন্ডিবর্দ্দি মৌজার ১৬৪০নং খতিয়ানে ডিসিআর নং ৩১৯৬১/১৫,আর এস দাগ নং-৮৭,৪৮ এ এক একর ৩৩ শতাংশ জায়গা আমরা ভোগ দখল করে আসতেছি। অবৈধ ইটভাটার মালিক মোঃ জহিরুল ও জাহাঙ্গির গত বৃহপতিবার সন্ধ্যায় মাটি কাটার যন্ত্র বেকু দিয়ে জোড়র্পূবক আমার জমি থেকে মাটি কাটিলে বাধা দিলে তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাত সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের প্রানে মেরে ফেলোর হুমকি দিয়ে তেরে আসলে আমরা ফসলি জমি থেকে প্রান ভয়ে পালিয়ে আসি। এই জমির প্রকৃত মালিক আমরা আমাদের কাছে কাগজপত্র সকল দলিল রয়েছে। গ্রামের মোঃ মাহবুব হোসেন রন্টু বলেন, ইটভাটার মালিক চন্ডিবর্দ্দি গ্রামের মোঃ জহিরুল আমাদের ১৫৮ শতক জমির মাটি কেটে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করায় হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। জোড় করে মাটি কাটায় বাধা দেওয়াতে গত মাসে গ্রামের দুজনকে তাঁরা মারধর করেছিলেন। আরেক কৃষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা অনেকটা আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। মাটি কাটা বন্ধ না হলে এই এলাকার মানুষের ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে। জমিতে ফসল ফলাতে না পারলে কৃষকেরা বাঁচতে পারবেন না।’

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জাহাঙ্গির খাঁন বলেন, খিদিরপুর গ্রামের কৃষকেরা বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে।

এদিকে লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের উত্তরপাশে গ্রামে গত শুক্রবার দেখা যায়, ৫০ একর জমির মাটি ৫-১০ ফুট গর্ত করে কেটে নেওয়া হয়েছে। এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে। সেখান থেকে ট্রাকে করে মাটি পার্শ্ববর্তী জহিরুরের ইটভাটায় ও এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। একদল যুবক সেখানে মহড়া দিচ্ছেন। খিদিরপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, এ গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি জহিরুল সিন্ডিকেট করে কৃষকদের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ভয়ে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায় না। এই অভিযোগ অস্বীকার মোঃ জহিরুল বলেন, কারও জমির মাটি জোর করে কাটা হচ্ছে না। সিরাজদিকান থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ হানিফ সরকার বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও আবু তানবীর মোহাম্মদ আজিম বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.