তৃণমূলে ক্ষোভ: কাউন্সিল ছাড়াই মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন

মুন্সীগঞ্জমুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই কারাগারে থাকা অবস্থায় বুধবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ঘোষিত মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাত সদস্যের গঠিত কমিটির ব্যাপারে পুরো জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। কাউন্সিল না করে এই কমিটি গঠন করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মতামত প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গঠিত কমিটির ব্যাপারে খুব একটা ইতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। অনেকে আবার নতুন কমিটিকে স্বাগতও জানিয়েছেন।
অনেকে মনে করছেন, এতে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির ঝিমিয়ে পরা অবস্থা কিছুটা হলেও কমে গিয়ে দলে চাঙা ভাব চলে আসবে। পক্ষান্তরে, অনেকে মনে করছেন, নতুন কমিটির কারণে দলে এক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, নতুন কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতনের মধ্যে এক ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসতে পারে। অনেকে ভাবছেন জেলা বিএনপিতে আব্দুল হাইয়ের একক কর্তৃত্ব দূর করতেই কোনওরুপ কাউন্সিল ব্যাতিরেকে এমন কমিটি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা জানান, আব্দুল হাইকে সভাপতি রেখে আলী আসগর রিপন মল্লিককে বাদ দিয়ে কামরুজ্জামান রতনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, যেন দলে দলের মধ্যে একটি ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু, কামরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি এবং আব্দুল হাইয়ের পূর্ব ভিটা গজারিয়া উপজেলাতে হওয়ায় একই এলাকায় দুটি বলয়ের সৃষ্টি হতে পারে। যেটা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এদিকে, নতুন কমিটি নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিক বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা জানান বাংলা ট্রিবিউনকে।

তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের প্রায় সব নেতাকর্মীরা দলের হাই কমান্ড, মহাসচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শাহজাহান খানের সঙ্গে দেখা করে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে চেয়েছিল। এই কমিটিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়ার কোনও প্রতিফলন ঘটেনি। তাই তাদের মধ্যে এই নতুন কমিটি নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে।“

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আজ সারাদিন কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তারা সময় দেয়নি। তবে শনিবার বোধ হয় তাদের সঙ্গে কথা বলা যাবে। তবে, এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করার জন্য আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি। যদি তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া না হয়, যদি তারা আমাকে যে কথা দিয়েছে তা রাখতে না পারে তাহলে আমি পদত্যাগ করবো।’

তবে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন জানিয়ে জেলা বিএনপির এই সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি বলেন, ‘শোনা যায় জেলার একজন সিনিয়র নেতার প্রভাবেই এমন কমিটি হয়েছে।’

তবে জেলা বিএনপির নতুন সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি করা হয় দলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য। সারাদেশের মতো মুন্সীগঞ্জ জেলাতেও নতুন ও পুরনো নেতাদের মিলিয়ে কমিটি করা হয়েছে। যেহেতু সামনে বিএনপি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেহেতু এই কমিটি দলকে নতুনভাবে গতিশীল করবে। আমি সব নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করবো-এমনটাই প্রত্যাশা করি।’

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের কমিটি না করার ব্যপারে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি থাকতেই পারে। তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, দলের নেত্রীর যে নির্দেশনা তা আমার রাজনীতির একটা অংশ। কিন্তু, কাউন্সিল না হওয়ার পেছনে আমার কোনও ভূমিকা নেই। আমি জেলা কমিটির কোনও সদস্যও ছিলাম না। দল তার নির্বাহী আদেশে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আমি পালন করবো। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা একজন নেতার মধ্যে যে গুণাবলী চায় আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করবো। আগামী তিন মাসের মধ্যে আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মন জয় করতে পারবো বলে আশা করি।’

তিনি আরও বলেন,‘নতুন কমিটির ৭ সদস্য, শাহ মোয়াজ্জেম, মিজানুর রহমান সিনহা এবং তৃণমূলের নেতাদের মতামত নিয়ে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবো।’

সহ-সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিকের পদত্যাগের আশংকার ব্যপারে তিনি বলেন, ‘এমন হলে দলগতভাবে পরামর্শ করে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.