ফারইস্ট লাইফের চেয়ারম্যানের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

বীমা দাবির টাকা না দিয়ে গ্রাহককে হয়রানি
বীমা দাবির টাকা না নিয়ে গ্রাহককে হয়রানি করায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়েছে। গ্রাহকের মামলার পর রোববার রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফরহাদ মামুন এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ভুক্তভোগী গ্রাহক রফিকুল ইসলাম বাবু। আর বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী।

জানতে চাইলে মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বাবু যুগান্তরকে বলেন, আদালতের আদেশের পর কোম্পানির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পুরো টাকা পরিশোধ করবেন বলে তিনি কথা দিয়েছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, শহরের ধুনচি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বাবু, তার স্ত্রী স্বপ্না পারভীন ২০১৫ সালের ২৮ জুন রাজবাড়ী ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি পলিসি করেন। পলিসি নং ১২৬০০০০২০১-৩। এর ৭ মাস পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না পারভীন মারা যান। এরপর বীমা দাবির টাকা পেতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফরিদপুর সার্ভিসিং সেলে আবেদন করেন। ৫ মাস পর গত বছরের ১৯ জুলাই ফারইস্ট ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অথচ পলিসির শর্ত অনুসারে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা। পরে দাবির টাকা আদায়ে ২ বার উকিল নোটিশ করেন তিনি। এতেও কোম্পানি থেকে টাকা পরিশোধ না করায় ১৪ মার্চ তিনি রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও রাজবাড়ী জেলা অফিসের ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪১৮/৪২০ ধারায় মামলা করেন। ওইদিনই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন। যার মামলা সিআর নম্বর-১৭৩/১৭।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী যুগান্তরকে বলেন, আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালতের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক। এ বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারা মতে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আদেশ দেন ১নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ মামুন। আদেশে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ প্রয়োজন হলে তার মালামাল ক্রোক করতে পারবে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স রাজবাড়ী জেলা অফিসের জোনাল ইনচার্জ মো. আলম বলেন, আদালতের আদেশের কথা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী বীমা গ্রহীতা মরহুমা স্বপ্না পারভীনের স্বামী রফিকুল ইসলাম বাবুকে বীমা অংকের ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও তিনি মামলা করেছেন।

যুগান্তর