সাকুরার সামনে নিহত জনি: পরিবারের অভিযোগ দলীয় কোন্দলে খুন

রাজধানীর শাহবাগের সাকুরা রেস্তোরাঁ ও বারের সামনে রবিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিহত ব্যক্তির নাম মো. জনি মিয়া (৩৫)। তিনি যুবদলের দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিছুদিন পর ওই ওয়ার্ডে যুবদলের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। তাতে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকেই তার সঙ্গে অন্য একটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন জনির বড় ভাই নয়ন আহমেদ।

এদিকে ঘটনার পর রাতেই সাকুরা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় বারের মালিকের ছেলে ও ম্যানেজারসহ ৪২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহবাগ থানায় রেখেছে পুলিশ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের ভাই বাদী হয়ে এটি করছেন।’

অভিযোগ রয়েছে, রবিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সাকুরা বারের ভেতরে প্রথমে সেলিম-মিজানুর গ্রুপের সদস্যরা মারধর করে জনিকে। পরে বারের ওয়েটারও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তাকে পেটাতে পেটাতে সামনের সড়কে নিয়ে আসে। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তার নিথর দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নয়ন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘জনি ২১ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। শিগগিরই এই ওয়ার্ডে কমিটি দেওয়ার কথা ছিল। তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর ও সেলিম গ্রুপ তাকে মারধর করে। এ সময় তারা ২০-২৫ জন একসঙ্গে রড ও লাঠি দিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার পরও রক্ষা পায়নি সে। বাইরেও পেটানোর কারণে তার মৃত্যু হয়।’

থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জানিয়ে নয়ন আহমেদ বলেন, ‘লাশ দাফনের পর মামলা করবো। ওসি পরে যোগাযোগ করার জন্য বলেছেন। আমি লাশ নিয়ে যাচ্ছি। তার মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

পুলিশ জানায়, ২০১২ সালে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও ফুল ব্যবসায়ী সেলিম শাহী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন জনি। এ নিয়ে ওই গ্রুপের সঙ্গে পুরনো দ্বন্দ্ব ছিল তার। এর জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাদের ধারণা। সেলিমের অনুসারী মিজানুর এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারের অভিযোগ।

নিহতের ভাই নয়নের দাবি, ‘শাহবাগ থানার পাশে ফুলের ব্যবসা করতো জনি। তবে তার কোনও দোকান নেই। সে পাইকারি ব্যবসা করতো। সাভার ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা ফুল দিয়ে গেলে সেগুলো সকালে শাহবাগে পাইকারি হারে বিক্রি করতো সে।’

তবে শাহবাগ বটতলা ক্ষুদ্র ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এই মার্কেটে জনি নামের কোনও ফুল ব্যবসায়ী নেই। তার কোনও দোকানও নেই। এখানে যারা ব্যবসা করেন, সবার কাগজ রয়েছে।’

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। কেন মারলো, কারা মারলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

জানা গেছে, নিহত জনি রাজধানীর কল্যাণপুরে ১১ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার দুই মেয়ে মীম (১৫) ও আয়েশা মনি (৭)। জনির বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলার রাজনগর এলাকায়। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে জনি ছিলেন দ্বিতীয়।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *