সোনিয়ার মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদ!

পুলিশ সুপারের বালুয়াকান্দি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ
দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী সেনিয়ার মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ বালুয়াকান্দির গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী করে ফেলে। তার সহপাঠীসহ নানা শ্রেণির মানুষ সোনিয়ার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে প্রতিদিন।
প্রতিবাদ মূখর হয়ে উফেছে সর্বস্তরের মানুষ। দুর্বৃত্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুদ।ধ সোনিয়ার সহপাঠী ও শিক্ষকগণ। এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম রবিবার সোনিয়ার বাড়িতে যান। তিনি সোনিয়ার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোনিয়ার মা মোহাম্মদ আলী জানান, কলপাড়ে যখন সোনিয়ার উপর হয়ে হাত ধোয়ার সময় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারে সে সোজা হয়ে উঠে দাড়ালে দুর্বৃত্ত তখন লাথি মেরে মাটিতে ফেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্বজনদের দাবী সোনিয়ার খালাতো ভাই পুলিশ কনস্টবল হারুন অর রশিদের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার কথা শুনে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের বিশেষ দলের এস.আই শাকিল খান বলেন, সোনিয়ার বাড়ির সরেজমিন পরিদর্শণে তাদের প্রাথমিক ধারণা পরিকল্পিপভাবে ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত একজনের ছবি ও নাম পাওয়া গেলেও তা পর্যাপ্ত তথ্য নির্ভর না হওয়ায় এবং পুলিশ নিশ্চিত না করায় সাংবাদিকতার ইথিক্স অনুযায়ী তা প্রকাশ করা গেল না। তবে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান শেষে সঠিক ঘটনা পাঠকদের কাছে তুলে আনার চেষ্টায় সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও গজারিয়া থানার ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভুঁইয়া ও গজারিয়া থানার ওসি তদন্ত মো: হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গজারিয়া থানার জ্যেষ্ঠ্য এস.আই মিজানুর রহমান জানান, হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন না হলেও তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি ২৪ এপ্রিল সোমবার বালুয়াকান্দি নিহত সোনিয়ার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি পরিবারের সাথে কথা বলার পর যাবেন সোনিয়ার কলেজে। বালুয়াকান্দি ডা. আব্দুল গাফ্ফার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সোনিয়া চলতি এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে কথা বলবেন।

এদিকে সোনিয়ার এই করুন মৃত্যুর ঘটনায় শোকের মাতম চলছে সোনিয়ার বাড়িতে। সহপাঠী ও প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। আর সোনিয়ার মায়ের কান্না যেন থামছেই না। গত ১৭ এপ্রিল আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ২১ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যু বরণ করে। সোনিয়ার মা হাজরা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত একজনকে আসামী করে ১৯ এপ্রিল গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভুঞা জানান, পুলিশ অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম সোনিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার সব চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না

সময় বাংলা

Comments are closed.