মুন্সীগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে লবিং গ্রুপিং

এক সময়ে মুন্সীগঞ্জ জেলাকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো। কালের বিবর্তনে তৃণমূল নেতা কর্মীদের বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়নসহ পকেট কমিটি গঠন ছাড়াও নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য জেলা বিএনপির কর্মকান্ড এখন নাই বললেই চলে। বিগত দিন গুলোতে কেন্দ্রর ঘোষিত কর্মমূচীতে ছাত্রদলে মাসুদ রানা-হুমায়ুনের নেতৃত্বে কতিপয় ছাত্র নেতার তৎপরতা ছাড়া কোন সফলতা দেখাতে পারেনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। ৬ থানার কোন উপজেলায় কোন বড় ধরেন সমাবেশ করতে পারেনি। পকেট কমিটিতেই সীমাবদ্ধ থাকায় অনেক নেতা দলচ্যুত হয়েছে।

সুত্র জানায়, জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে লবিং গ্রুপিং শুরু করেছে একাধিক ছাত্র নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রনেতা জানান, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে ব্যবসাসহ বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া এবং মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে বিএনপির অপর কাউন্সিলর প্রার্থীকে পারজিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখা শহরের শফিকুল হাসান তুষার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করতে এখন মাঠে নেমেছেন তোড়জোড়ে।

তুষার এখনও আওয়ামিলীগের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে লিয়াজু করে ব্যবসা চালাচ্ছে। তিনি গত পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার ওয়ার্ডে আওয়ামিলীগের প্রার্থী সুলতান জয়ী হয়। অল্প ভোটের ব্যবধানে ২য় স্থান ধরে রাখেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী গোলজার হোসেন। আওয়ামিলীগের সঙ্গে লিয়াজু করে তুষার ৩য় স্থান অর্জন করে। তুষার দলের বাইরে গিয়ে অবস্থান না নিলে বিপুল পরিমান ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী গোলজার হোসেন জয়লাভ করিত বলে জানান সাধারন ভোটাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সক্রিয় নেতারা জানান, দীর্ঘ এক যুগেও জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারেনি। ওয়ার্ড থেকে উপজেলা এবং বিভিন্ন কলেজ কমিটিতে যে যে পদে ছিল সে পদেই তাকে পার করতে হয়েছে এক যুগ। নতুন প্রজন্মের কোন ছাত্রই ছাত্র রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেনি। ফলে বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেনি ছাত্রদল।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন নেতৃত্ব আসার পর মুন্সীগঞ্জ জেলার ছাত্র নেতারা জেলা কমিটি গঠনে তৎপর হয়ে উঠে। তৃনমূল থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক গজারিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক মুন্নাকে সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি জমা দেয়।

২০০০ সালের পূর্বে এসএসসি পাস করায় রানা ছাত্রদলের কমিটিতে ঢুকতে পারবেনা। ছাত্রদলের এ অংশটি রানার পরিবর্তে রানার কমিটির প্রচার সম্পাদক বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রানার পরে যার ভূমিকা ছিল হুমায়ুন আহম্মেদকে সাধারণ সম্পদক হিসাবে চাচ্ছে। এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি মো: আবদুল হাইয়ের ছোট ভাই সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিনের সুপারিশে শহরের শফিকুল হাসান তুষারকে সভাপতি ও শ্রীনগরের মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি জমা দেয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে। দুইটি কমিটি জমা পরায় জেলা কমিটির অনুমোদন ফাইলবন্দি হয়ে পরে।

তবে কেন্দ্রীয় এক নেতা জানায়, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান সকলের বিষয়ে গোপনে খোঁজ খরব নিচ্ছে। যে কেন সময় কমিটি দৃশ্যমান হতে পারে। এই দুই কমিটির বাইরেও সভাপতি পদে যুবরাজ খান কাজল সাধারণ সম্পাদক পদে জসিম মোল্লার নাম উঠে এসেছে।

এদিকে তৃনমূলের নেতা কর্মিরা চাচ্ছেন তুষার পূর্বে যেহেতু ছাত্রদলের কোন কমিটিতে ছিলোনা এবং এলাকাতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে বিএনপির অপর কাউন্সিলর প্রার্থীকে পারজিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই তাকে বাদ দিয়ে মুন্নাকে সভাপতি হুমায়ুন অথবা জসিম মোল্লাকে সাধারণ সম্পদক করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি করা হলে দল চাঙ্গা হবে এবং আগামীতে কোন আন্দেলন সংগ্রামে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারবে।

চমক নিউজ