আব্দল্লাহপুর ইউনিয়নবাসীর আতঙ্কিত এক নাম শরীফ মেম্বার

জসীম উদ্দীন দেওয়ান: মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার শরীফ হোসেন। এলাকায় মাদক ব্যাবসা , জুয়ার আসর চালানো, নিজের শক্তিবলয়ে সরকারী গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, চাঁদাবাজি, সরকারী ও পঞ্চায়েৎ কমিটির জায়গা দখলসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্বে এলাকার কেউ একটু মুখ খুললে পুলিশী হয়রানী ও জীবন নাশের হুমকিসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে রেখেছে এলাকাবাসীকে। এই মেম্বারের অপকর্ম বা অত্যাচারের কাছ থেকে রেহাই পেতে থানার গিয়ে সুফল না পাবার অভিযোগও রয়েছে ভুক্তভোগীদের।

আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর পাইকপাড়ার বাচ্চু শেখ, মো: ইউনুছ, হায়দার ও নুর ইসলাম মাওলা জানান, গেল ছয় এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পালবাড়ি এলাকা থেকে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে এই মেম্বার আটক হলে ডাকাতরা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বলে চিৎকার করে সে, পরে মহিলাদের সহায়তায় পালিয়ে যায় শরীফ। এই অভিযানের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ মেম্বার আমাদেরকে থানা থেকে পুলিশ এনে হয়রানীর চেষ্টা চালায়। তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান বলেও জানান তাঁরা। পথে আটকিয়ে হাত পা ভেঙ্গে ফেলাসহ জীবন নাশের এবং মিথ্যা মামলা দেবার হুমকি প্রদান করেন বলেও অভিযোগ তাদের। এ্ই ঘটনায় তাঁরা থানায় দুদিন ঘুরেও জিডি এন্টি করতে ব্যার্থ হয় বলে জানান তারা।

তবে অনেক চেষ্টার ফলে ১৭ এপ্রিল শরীফ মেম্বারসহ তার ক্যাডার বাহিনীর কয়েকজনের নাম জড়িয়ে টংগিবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করতে সক্ষম হয় নুর ইসলাম মাওলা, যেটির নাস্বার ৭৩০। শরীফের অত্যাচারে অতিষ্ট হায়দার আলী বলেন, এই শরীফ মেম্বার পুলিন্দাপাড় পঞ্চায়েৎ কমিটির সোয়া তিনশতাংশ জায়গার উপরে বিল্ডিং করে দখল করে রেখেছে বেশ কয়েক বছর ধরে, ইউনিয়নটির বটতলায় সরকারী জায়গা দখল করে রেখেছে দুটি দোকান ঘর তৈরী করে। বচ্চু শেখ জানান, রাজাকারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামীলীগের দোয়াই দিয়ে এমন প্রতাপ চালায় শরীফ মেম্বার। পঞ্চায়েৎ কমিটির পুকুর ভাড়া নেবার বিষয়েও চলে এই শরীফের তান্ডব।

এর আগের মেয়াদে তিন বছরের জন্য পুলিন্দাপাড় যে পকুর ভাড়া দেয়া হয় ২৭ লাখ টাকায়। কমিটির এবং এলাকার উল্লেখযোগ্য লোকদের মামলায় জড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়ে মাত্র সাড়ে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে এবার তা হাতিয়ে নেয় এই শরীফ। ফলে বিশাল অংকের একটি টাকার ক্ষতির মুখে পরে সমাজের লোকেরা। সমাজের অনেকেই অভিযোগ করেন, পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে শরীফ এই সকল অপকর্ম করে থাকেন। শরীফের এই অবৈধ কাজ থেকে রেহাই পায়নি উত্তর পাইকপাড়ার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন ও আইনজীবি মাহমুদা আক্তার কনিকা দম্পত্তিও। মাস খানেক আগে নিজেদের জায়গা ভরাট করার প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে শরীফ মেম্বারের বাহিনী দিয়ে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে জানান, আইন জীবি কনিকা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই নিন্দা জানান শরীফ মেম্বারের অবৈধ এই সকল কাজের। তবে বড় নেতাদের আশির্বাদ শরীফের উপর থাকায় নাকি শরীফ বিনা বাধায় এমনসব অবৈধ কাজ করতে পারছে বলে জানান তাঁরা। এদিকে শরীফ মেম্বারের জন প্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

Comments are closed.