সোনালী এখন স্বামীর ঘরে

শ্রীনগর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সহায়তায় স্ত্রীর স্বীকৃতি পেয়ে স্বামীর ঘরে ঠাঁই পেয়েছেন নড়িয়ার সোনালী। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের শ্রীপুর উপজেলার বিবন্দী গ্রামের ইউপি সদস্য আবদুল কাইয়ুম মিন্টুর বাড়িতে সালিশের মাধ্যমে তাকে স্বামীর ঘরে তুলে দেয়া হয়।

জানা গেছে, উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের বিবন্দী গ্রামে মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে মহিলা ইউপি সদস্যর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর ইউনিয়নের মো. শহিদুল ইসলামের মেয়ে সোনালী আক্তার (২০)। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শ্রীনগর প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক।

সোনালী আক্তার সাংবাদিকদের কাছে জানান, আড়াই বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে কুকুটিয়া ইউনিয়নের সিন্দুরদী গ্রামের মো. আলী আকবরের ছেলে মো. শাকিল বেপারী ওরফে রাজনের (২৩) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দেড় বছর আগে শাকিল বাবার নাম ও ঠিকানার ভুল তথ্য দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আমাকে বিয়ে করে।

তিনি জানান, বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারকে জানালে তারা মেনে নেয়। এর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে শাকিল আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতো। এক পর্যায়ে আমি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে সে তালবাহানা শুরু করে। পরে ওষুধ খাইয়ে গর্ভের বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শাকিল যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আমি কাবিনের ঠিকানা অনুযায়ী লৌহজং উপজেলার সিংহের হাটি গ্রামে গিয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে শাকিলের রেখে যাওয়া কিছু কাগজপত্রের মধ্যে পাসপোর্টের একটি ফটোকপি পেয়ে সেই মোতাবেক এখানে এসে তার সঠিক ঠিকানা জানতে পারি।

কুকুটিয়া ইউপি সদস্য রেখা বেগম জানান, শাকিলের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে অবগত করলে প্রথমে তারা তালবাহানা করে। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে বুধবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য মিন্টুর বাড়িতে শ্রীনগর প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম শ্যামল, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে ফের তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। পরে শাকিল স্ত্রীর অধিকার দিয়ে সোনালীকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

যুগান্তর