‘রাইজিং স্টারস্ অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ ব্যতিক্রমধর্মী একটি আয়োজন

রাহমান মনি: টোকিওতে গতানুগতিকতার বাইরে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল উদীয়মান কিছুসংখ্যক তরুণ। ‘রাইজিং স্টারস্ অ্যাওয়ার্ড নাইট ২০১৬’ নামে অত্যন্ত গোছানো জাঁকজমকপূর্ণ অথচ সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে ক্রিকেটপ্রেমীদের এ সংগঠনটি বাৎসরিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টোকিওর প্রসিদ্ধ এলাকাখ্যাত মারুনোউচির মাহারাজা নামক রেস্তোরাঁয়।

সান্ধ্যকালীন এ আয়োজনে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, কাউন্সিলর ড. জিয়াউল আবেদীন, কমার্স কাউন্সিলর মো. হাসান আরিফ, প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন, দূতালয় প্রধান (দ্বিতীয় সচিব) মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং দ্বিতীয় সচিব মো. বেলায়েত হোসেনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং মিডিয়া ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে উদীয়মানদের উৎসাহ প্রদান করেন।

রেজোওয়ানুর কবির রাজিন, কাজী মুরাদ এবং নাইমূল সাঈদদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে রাইজিং স্টারস্ এর বিগত দিনের বিভিন্ন কর্মযজ্ঞের ভিডিও ক্লিপ, জাপান ক্রিকেটের অংশবিশেষ এবং ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বিস্তারিত দেখানো হয়। এরপর জাপানের স্কুলগুলোতে ক্রিকেট কর্মকা-ের ওপর বক্তব্য রাখেন মায়েদা ইয়ুকি।

এরপর বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত এমবাসি কাপ টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন এবং রানারআপ দলের ক্যাপ্টেন সুমন এবং রাজিন ও অন্যান্য খেলোয়াড় রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার হাতে চ্যাম্পিয়ন কাপ তুলে দেন। এ সময় অতিথিবৃন্দ দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন কাপকে সম্মান জানান।

এরপর রাজিন ও মুরাদ পালা করে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তরা অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন

বেস্ট ইনিংস (ব্যাটিং) : আহমেদ মকবুল পারভেজ। তিনি প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেনের কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
বেস্ট ইনিংস (বোলিং) : রেজোওয়ানুর কবির রাজিন। তিনি দ্বিতীয় সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের হাত থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
মৌসুমের শ্রেষ্ঠ বোলার : রনি তালুকদার। তিনি দ্বিতীয় সচিব এবং দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনের হাত থেকে ক্রেস্ট গ্রহণকরেন।
মৌসুমের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান : রেজাউল হক সুমন। তিনি কাউন্সিলর ড. জিয়াউল আবেদীনের হাত থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
২০১৬ সালের শ্রেষ্ঠ ফিল্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন কাজী মুরাদ। তিনি কমার্স কাউন্সিলর মো. হাসান আরিফের হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

এরপর ২০১৬ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হন মহিবুল হাসান। রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা তার হাতে এ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

অ্যাওয়ার্ড পর্বের সবশেষে মহিবুল হাসান রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার হাতে অতিথি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় রাইজিং স্টারস্ সদস্যবৃন্দ তার পাশে ছিলেন।

অ্যাওয়ার্ড পর্ব শেষে রাষ্ট্রদূত তার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সবার উপস্থিতিতে কেক কেটে ২০১৭ মৌসুমের শুভ কামনা করেন। দর্শনীয় এবং সুস্বাদু এই কেকটি বানিয়েছেন সিরাজুম মুনিরা চাঁদনী।

রাষ্ট্রদূতের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ‘রাইজিং স্টারস্’-এর পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান পর্বে কিয়োদাই রেমিট্যান্সের পক্ষে ম্যানেজার হুমায়ুন কবির, সাম্পান গ্রুপের প্রেসিডেন্ট শেখ মঞ্জুর মোরশেদ এবং ডেস্টিনি ইন্ক-এর প্রেসিডেন্ট গুল মোহাম্মদ ঠাকুর বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও পদ্মা কো. লিমিটেড এবং হাট কো. লি. অন্যতম পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে।
অতিথিবৃন্দদের মধ্যে ক্রীড়া সংগঠক আশরাফুল ইসলাম শেলী, সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক এবং ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

২০১৪ সালে স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটপ্রেমী তরুণ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাইজিং স্টারস্ নামের ক্রীড়া সংগঠনটি। শুরু থেকেই সংগঠনটি শুধু ক্রিকেট খেলা নিয়ে মেতে না থেকে জাপানে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করা এবং প্রতিষ্ঠা ও পরিচিত করানোর জন্য কাজ করে আসছে। এজন্য তারা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণসহ জাপানের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠ ভাড়া নিয়ে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করে থাকে। এ সবই করা হয় ক্রিকেটকে পরিচিত করার জন্য। জাপান লিগ, কান্তো লিগ এবং বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয়া তারই ধারাবাহিকতা। বর্তমানে তাদের সদস্য সংখ্যা ২২ জন।
৯ এপ্রিল সান্ধ্যকালীন অ্যাওয়ার্ড নাইট আয়োজনে শুধু পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে এমনটি নয়। এদিন তারা বাৎসরিক হিসাব প্রদান করে থাকে।

রাইজিং স্টারস্ ক্রীড়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সামাজিক কর্মকা-েও অংশ নিয়ে থাকে। গত বছর তারা গাইবান্ধা জেলার কামারগঞ্জের চরকুন্ডের পাড়াতে ‘কুন্ডের পাড়া গণউন্নয়ন একাডেমী’ নামক একটি সেকেন্ডারি স্কুলে আর্থিক সহায়তা করে থাকে। বিদ্যালয়টি ঘূর্ণিঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ বছরও তারা বিদ্যালয়টি পুনঃ প্রতিষ্ঠায় সহায়তার হাত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাইজিং স্টারস্-এর এই উদ্যোগ উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।

সবশেষে অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অ্যাওয়ার্ড নাইট এবারের আয়োজনটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো। এর আগে তারা গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি টোকিও কিতা সিটিতে একই আয়োজন করেছিল।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক