জাপান প্রবাসী মাসুমুল হাসান’র প্রতারনার শিকার ইমুরা মিদোরির জন্য কি আমাদের কিছুই করার নেই?

জাপান প্রতিনিধিঃ ভালোবাসা নামক এক প্রতারনার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন তরুনী থেকে সদ্য যুবতীতে পা দেয়া ইমুরা মিদোরি নামক এক জাপানীজ যুবতী, ফাহিমুল হাসান নামক এক বাংলাদেশী প্রতারকের বড়শী গিলেছিলেন তিনি। যৌবনের তাড়না, রঙ্গিন স্বপ্ন, ভালোবাসা নামক আবেগের কাছে কঠিন বাস্তবতা, পিতামাতার পরামর্শ বিবেক নামক ইন্দ্রটি সেদিন যেনো লোপ পেয়ে গিয়েছিল। আর তাইতো সাড়া দিতে বেশী একটা সময় নেননি মিদোরি। ভালোবাসা নামক গেইম খেলা থেকে প্রতারনার জালে পা দিয়ে অতঃপর একদিন বিয়ে।

কবে প্রথম দেখা হয়েছিল সঠিক মনে না থাকলেও ২০০০ সালের ১৯ মার্চ বাপ মার অবাধ্য হয়ে যে বিয়ের পিড়িঁতে বসেছিলেন এ কথাটি মনে আছে বেশ। তবে মিদোরির বাব-মা’র অমত থাকলেও হাসানের আগ্রহের কমতি ছিল না। কারণ জাপানী “বউমা” পাওয়া তাদের জন্য ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো। কারণ জাপানে অবৈধ (ভিসাহীন) বসবাস ঝুকিপূর্ন। যে কোন সময়-ই ধরা পড়ার সম্ভাবনা। চাকুরী পাবার নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে। তাই ছেলে তাদের অবশেষে বড়শীতে ফেলা আধার গিলাতে পেরেছে, এই মাছ হাতছাড়া করা যাবে না। যেভাবেই হউক ডাংগায় তোলা লাগবেই অর্থাৎ বউ ঘরে আনতে হবে। তাই তারা প্রয়োজনীয় দলিলাদি পাঠাতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেন নি। আর সব কিছু জমা দিয়েই অবশেষে ২০০০ সালের ১৯ মার্চ জাপানীজ আইন মেনে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন তারা। আর বিবাহ সংক্রান্ত জাপানী আইনের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে এক বউ থাকা অবস্থায় (বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা মৃত) কোন মতেই দ্বিতীয় বিবাহ করা যাবে না। সে দেশেই হউক বা বিদেশেই হউক অর্থাৎ জাপান বা জাপানের বাহিরে একই সংগে ২ বিবাহ চলবে না।

পুরানো ঢাকা গেন্ডারিয়ার ৫৩/৭/২, হরিচরন রায় সড়ক (ফরিদাবাদ মাদ্রাসার বিপরীত গলি) নিবাসী মোঃ আজহারুল হাসান এবং মাসুমা খাতুনের সন্তান মাসুমুল হাসান নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে জাপান আসেন। তার পাসপোর্ট নাম্বার বিসি ০৩৮২৬১৪।

প্রথমে জাপানীজ ভাষা শিক্ষা কোর্স শেষ করে একটি ভকেশনাল বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে তিনি সেখানকার কোর্স শেষ করতে সক্ষম হননি। অবৈধ থেকে বৈধতা পাবার জন্য তিনি বেছে নেন প্রতারনার পথ। কারন সেই সময় একমাত্র জাপানী নাগরিককে বিয়ে করা ছাড়া বৈধ হওয়ার দ্বিতীয় কোন পথ খোলা ছিল না। তাই ইমুরা মিদোরিকে বিয়ে করে বৈধতা পান এবং জাপানী স্ত্রী থাকার সুবাদে চাকুরীও পেয়ে যান।

সাইতামা প্রিফেকচারের ফুজিমি শহরে একটি বাসা নিয়ে সুখে শান্তিতেই বসবাস শুরু করার অভিলাষ করেন। এই অভিলাষের অন্যতম কারণ ছিল প্রতারনার মাধ্যমে স্ত্রীর জমানো এবং কামানো অর্থ হাত করা এবং স্থায়ীভাবে অর্থাৎ পারমানেন্ট রেসিডন্স নেওয়ার পর স্ত্রীকে ত্যাগ করা। জাপান আইনে পারমানেন্ট রেসিডেন্স পাওয়ার পর ভিসা সংক্রান্ত সব ঝুট-ঝামেলা দূর হয়ে যায়। আর কারোর মুখাপেক্ষি থাকা লাগে না।

স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করার শুরু থেকেই হাসান বিভিন্ন অজুহাতে মিদোরির অর্থ হাতাতে শুরু করেন। বাংলাদেশে বড় বাড়ি করে বহুতল অট্টালিকা করে সেখানে শান্তিতে এবং অনায়াসে বিলাসী জীবন যাপন করা যাবে। সেই স্বপ্ন-ই তিনি স্ত্রীকে দেখান এবং এক পর্যায়ে কৃতকার্য হতে সক্ষম হন। দুইজনের আয়ে নিজেদের সাংসারিক খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরন এবং বাড়ি তৈরীর কাজ চলছে বলে জানান স্ত্রীকে। স্ত্রী বাংলাদেশে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে বার-বারই নিরাশ করেন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে। যার মধ্যে যাতায়াত বাবদ বিমান খরচ যে অর্থ প্রয়োজন সেই অর্থ দিয়ে বাড়ির কাজে অগ্রগতি হবে বলে অজুহাত দেখান, স্ত্রী সন্তান নিতে চাইলেও একই অজুহাত, এইভাবে কেটে যায় বেশ কয়েক বছর…।

এরই মধ্যে হাসানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন চালাকি আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতে শুরু করে মিদোরির কাছে। অন্য মেয়ের সাথে রাত কাটানো (বন্ধুর বাসায় থাকার কথা বলে) ধরতে পারে মিদোরি। চায়নীজ, জাপানীজ এবং ফিলিপিনো একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এমন কি মিদোরির আপন ছোট বোন (যে কিনা সম্পর্কে শালি) কে ও যৌন নির্যাতন করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। শারীরিক প্রতিবন্ধি ছোট বোন বড় বোন তো বটেই পুলিশের আশ্রয় নেন। সেই দফায় ক্ষমা চেয়ে আপোষ হয়।

এইভাবে টানা পোড়নের মধ্যে হাসান বাংলাদেশী এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। স্ত্রী বাংলাদেশে যেতে চাইলে তাকে নিরাশ করলেও নিজে কিন্তু ঠিকই বাংলাদেশ যান এবং পারিবারিক ভাবেই ঢাকার তাঁতী বাজারের নাহিদা আলো নামের এক তরুনীকে বিয়ে করেন।

বিয়ে করার জন্য CV-তে তিনি জাপানে ইঞ্জিনিয়ার, অবিবাহিত, টোকিও বৈশাখী মেলার একজন আয়োজকসহ অনেক ভালো ভালো কথাই লিখেন। যদিও বর্তমানে তিনি কর্মহীন।

বাংলাদেশে বিয়ের ঘটনাটি ধরা পড়ে মিদোরির কাছে বিভিন্ন (তাকে) অবহেলার মাধ্যমে। প্রতিবাতেই ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনালাপ, অযথা অজুহাত দেখিয়ে মিদোরিকে শারীরিক নির্যাতন, বিচ্ছেদের হুমকি সহ নানা টালবাহানা মিদোরিকে সন্দিহান করে তোলে। এক পর্যায়ে সত্য প্রকাশ পেয়ে যায়। বাংলাদেশের স্ত্রী নাহিদা আলোর সাথে মিদোরির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। নাহিদা আলো মিদোরিকে অস্বীকার করে নিজেকে একমাত্র স্ত্রী দাবি করে বলেন, হাসান আগে অবিবাহিত ছিল, আমাকে বিয়ে করার পর আমি-ই তার একমাত্র স্ত্রী এবং মিদোরি ইমুরা নামের কেউ কোনদিন ছিল না, এখনো নেই এবং হাসান জাপানে নামকরা একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং সংগঠক। যদিও হাসান এখন কর্মহীন।

ইতিমধ্যে হাসান বাড়ির গ্যাস বিল, পানি বিল, বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করে দেয় কর্মহীন থাকার অজুহাত দেখিয়ে। যদিও সে মাঝে মধ্যে লেবারিয় মাধ্যমে কিছুটা আয় করেন। তথাপি “হ্যালো ওয়ার্ক” (যেখানে কর্মহীনদের জন্য কাজ খুঁজে দেওয়া হয় এবং পূর্বের কাজের স্থান থেকে পারসেন্টিজ ভিত্তিতে কিছুটা বেতন আদায় করে দেওয়া হয়ে থাকে) এ নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। মিদোরির আয়ে বাসা ভাড়া (৭০,০০০ ইয়েন) এবং খাওয়ার অর্থ মিদোরি নিজেই যোগান দিয়ে থাকেন।

মিদোরি উপর শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে মিদোরি জাপান পুলিশকে কল করতে বাধ্য হয়। পুলিশ সব শুনে মিদোরির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হাসানকে অন্যত্র রাত কাটানোর পরামর্শ দেন। পরামর্শটি হাসানের জন্য সোনায় সোহাগা হয়ে দেখা দেয়। তিনি লুফে নেনে এবং গৃহ ত্যাগ করেন। তিনি গৃহ ত্যাগ করেন ঠিকই কিন্তু ডুপ্লিকেট চাবি রেখে দেন এবং মিদোরি যখন বাসায় থাকেন না তখন ঢুকে খাবার খাওয়া সহ বিভিন্ন জিনিস সরাতে থাকেন। মিদোরি বিষয়টি আঁচ করতে পেরে খাবারের মধ্যে কেবল শুকরের মাংস সমৃদ্ধ খাবার রেখে দেন ঘরের মধ্যে। কিন্তু হাসান মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মিদোরিকে অবাক করে শুকরের মাংসও ভক্ষন করেন। মিদোরির ধারনা ছিল হাসান ইসলাম ধর্মালম্বী হওয়ায় শুকরের মাংস ভক্ষন করবে না।

অনেক কষ্ট করে মিদোরি পানি বিল এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সংযোগ চালু করাতে পারলেও গত জুন ২০১৬ থেকে বাসার গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেকটাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গ্যাস সংযোগ পেতে হলে তাকে গুনতে হবে বকেয়া বাবদ ৮০,০০০ (আশি হাজার) ইয়েন এরই কিছু বেশী। যেটা বর্তমান অবস্থায় মিদোরির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কারন, প্রথমত তার জমানো টাকা অনেক আগেই হাসানের হস্তগত হয়ে গেছে। দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশে নিজস্ব বাড়িতে সুখের আবাস গড়বেন বলে পারমানেন্ট কোন জবও বেছে নেননি, নিয়েছেন পার্টটাইম জব। তাছাড়া বয়সটাও এখন তার জন্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। মানষিক ভাবেও বিপর্যস্ত।

অনেক দেন দরবার করে পারিবারিক আদালত মিদোরির পক্ষে রায় দিলে হাসান জাপানী ভাষায় সত্যিকারের হাসান (নিঃস্ব) দাবী করে অর্থ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। অনেক বার্গেনিংয়ের পর অবশেষে প্রতিমাসে ১০,০০০ (দশ হাজার) ইয়েন দিতে সম্মত হন এবং প্রথম মাসে দেওয়ার পর আবার বন্ধ করে দেন। যেটা নিয়ে মিদোরি আবার পারিবারিক আদালতের শরনাপন্ন হন।

বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিয়ে কোন রফা করতে না পেরে মিদোরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি লিখেন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের শরনাপন্ন হন। মিদোরির এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন হাসান-নাহিদা আলোর বিয়ের কাবিন নামা। যেটি পেলে তিনি জাপান আদালতে লড়তে পারবেন। তিনি টোকিও ইমিগ্রেশন – এ গিয়ে এর পক্ষে বিভিন্ন দলিল জমা দেন। কিন্তু ইমিগ্রেশন কাবিন নামা না পেলে তাদের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছে। কারন, হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী আলো তার গার্ল ফ্রেন্ড বা রক্ষিতা। আর জাপান আইনে রক্ষিতা রাখা দোষের কিছু নয়। যদিও আলো নিজেকে হাসানের একমাত্র স্ত্রী বলে দাবী করেন বলে মিদোরি জানান। তথাপি হাসান কেবলি রক্ষিতা হিসেবেই জানে।

মিদোরির লিখিত অভিযোগ আমলে নেয় টোকিওস্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সত্যতা যাচাই করে খুঁজে দেয়ার জন্য (কাবিন নামা) বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট চারটি মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠায়। এই নিয়ে দৈনিক যুগান্তর ২৭ মার্চ ২০১৭ “স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কাবিন খুঁজছেন মিদোরি” শিরোনামে মুজিব মাসুদ পরিবেশিত একটি রিপোর্টও ছাপা হয়। যুগান্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর দূতাবাসের ১ম সচিব (শ্রম) বেবী রানী কর্মকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উক্ত তথ্য চাওয়া হয়। চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক (কনসুলার এন্ড ওয়েলফেয়ার), জনশক্তি প্রশিক্ষন ব্যুরোর মহাপরিচালক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়। সর্বশেষ জানা যায় এখনো কোন মন্ত্রনালয়-ই কিছুই করতে পারেনি।

মিদোরি জানায় ২০১৫ সালের মে মাসে হাসান দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং তাকে তাচ্ছিন্যতা শুরু করে, ২০১৬ সালের পর সার্বিকভাবে সব কিছুই বন্ধ করে দিলে মিদোরির মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়। গ্যাস সংযোগহীন মিদোরি বর্তমানে পরিচিত জনদের বাসায়, পাবলিক বাথ ব্যবহার এবং সন্ধ্যার পর দেয়া সেল (অর্ধেক দামে) এ খাদ্য সামগ্রী কিনে জীবন যাপন করছেন। যেটা স্বাভাবিক নয়।

হাসান নতুন পাসপোর্ট এ সে সিংগেল পরিচয় দিয়েছে এবং জরুরী যোগাযোগ এর জন্য শুধু হাসান লিখে একই ঠিকানা দিয়েছে এবং হাসান তার বন্ধুর নাম লিখেছে মাসুমুল হাসান, মানে হচ্ছে মাসুমুল হাসান আর হাসান দুই বন্ধু, যদিও দু’জনেই একই লোক। এর কারন হচ্ছে, এই সংক্রান্ত কোন চিঠি আসলে সে নিজেই যেন তা রিসিভ করতে পারে, অন্যের হাতে না যায়।

২০১৬ সালে টোকিও বৈশাখী মেলায় হাতে নাতে ধরার জন্য মিদোরি উপস্থিত হলে হাসান সটকে পড়েন এবং পরবর্তীতে মেডিক্যাল রিপোর্ট (মিথ্যা) পেশ করেন। মেলার প্রধান সমন্নয়ক বলে দিয়েছেন বিষয়টি ব্যক্তিগত। এ বছর ও মিদোরি প্রস্ততি নিচ্ছেন টোকিও বৈশাখী মেলায় হাসানকে ধরবেন এবং সকলের কাছে বিচার চাইবেন।

মেলার প্রধান সমন্নয়কের কিছুই করার না থাকলেও প্রবাসী হিসেবে কি আমাদের কিছুই করার নেই প্রতারনার শিকার ইমুরা মিদোরির জন্য? আর প্রতারকটি যখন একজন বাংলাদেশী। আসুন না একজন হাসানের শাস্তির ব্যবস্থা করে লক্ষ হাসানের বাংলাদেশের মান রক্ষায় এগিয়ে আসি। মিদোরিকে জানান দিই সব বাংলাদেশী –ই হাসান নয়।

Comments are closed.