যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৩ কয়েদির মুক্তির পথ খুললো

মুক্তির পথ খুলেছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ২৩ কয়েদির। তাদের অবশিষ্ট দণ্ড ও জরিমানা মওকুফ করেছে সরকার। দণ্ড মওকুফ পাওয়া কয়েদিদের সবার বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে গতকাল এ মওকুফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এ ২৩ ব্যক্তি ২০ বছর বা তার অধিক সময় পর্যন্ত জেল খেটেছেন। কয়েক জনের পক্ষে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। ওই সব কয়েদি সংশ্লিষ্ট জেলারের কাছে সাজা মওকুফের জন্য আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কারা প্রশাসন আবেদনগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। সুরক্ষা সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারা প্রশাসন থেকে পাওয়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে প্রায় শতাধিক আবেদন নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর সভার কার্যবিবরণী আকারে বিষয়টিতে ভেটিং করতে লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং বিভাগে পাঠানো হয়। ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের কারা বিধি ১ম খণ্ডের বিধি ৫৬৯ অনুযায়ী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার ২৩ জন কয়েদির অবশিষ্ট কারাদণ্ড ও জরিমানা দণ্ড মওকুফ করেছে। দণ্ড মওকুফ পাওয়া কয়েদিদের দুইজন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, তিনজন ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে, একজন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে, একজন নাটোর জেলা কারাগারে, একজন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে, একজন ফেনী জেলা কারাগারে, ছয় জন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে, একজন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে, একজন মাগুরা জেলা কারাগারে, দুইজন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে, তিন জন পটুয়াখালী জেলা কারাগারে, একজন মাদারীপুর জেলা কারাগারে এবং একজন দিনাজপুর জেলা কারাগারে আছেন।

খালাসপ্রাপ্ত কয়েদিরা হলেন- মোহাম্মদ আলী খান ওরফে লেলিন (কয়েদি নং-৯৯৩১/এ), পিতা- মৃত হুমায়ুন কবির খান, গ্রাম- উত্তর মেদিনী মণ্ডল, থানা-লৌহজং, জেলা-মুন্সীগঞ্জ, বয়স-৬৪ বছর; লেবু মোল্লা (কয়েদি নং-৮৮৯৯/এ), পিতা- নজরুল ইসলাম মোল্লা ওরফে ফটিক মোল্লা, গ্রাম-মঙ্গলহোড়, থানা- দেলদুয়ার, জেলা-টাঙ্গাইল, বয়স-৫৪ বছর; মো. ইউনুচ আলী (কয়েদি নং- ৩২৪৪/এ), পিতা-মৃত আ. রহিম, গ্রাম-চণ্ডি মণ্ডব, থানা- মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ, বয়স-৫০ বছর; হাবিবুর রহমান (কয়েদি নং- ২২৮৮/এ), পিতা-মৃত ইছম উদ্দিন, গ্রাম-গেড়ামারা, থানা-নালিতাবাড়ি, জেলা-শেরপুর, বয়স-৬৭ বছর; আবু বক্কর সিদ্দিকী (কয়েদি নং-২৩৭৭/এ), পিতা-নূর মোহাম্মদ মণ্ডল, গ্রাম- বিরাশী, থানা-মুক্তাগাছা, জেলা- ময়মনসিংহ, বয়স-৬২ বছর; মো. বেলাল উদ্দিন (কয়েদি নং-৭৮২৫/এ) পিতা-মৃত আছির উদ্দিন, গ্রাম- রক্ষিতপাড়া, থানা-বাগমারা, জেলা- রাজশাহী, বয়স-৪৯ বছর; আঃ জলিল (কয়েদি নং-৩৯৮০/এ), পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিন, গ্রাম-শ্রীপুর হাল পাংগাসিয়া, থানা-সিংড়া, জেলা- নাটোর, বয়স-৭০ বছর; মোছাঃ হামিদা খাতুন (কয়েদি নং-২৬৫৭/এ) স্বামী- সোলেমান আলী, গ্রাম-বলরামপুর, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর, বয়স- ৫০ বছর; রবিউল হক (কয়েদি নং- ৫৯৯৮/এ) পিতা-আঃ খালেক, গ্রাম- উত্তর হকদি, থানা-সদর, জেলা-ফেনী, বয়স-৫৫ বছর; আসিক আলী (কয়েদি নং-৯১৫৩/এ) পিতা-তহুর আলী, গ্রাম- ভূগলী, থানা-ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ, বয়স-৬৫ বছর; কাজল মিয়া (কয়েদি নং-৮৬৮২/এ) পিতা-ছাওমনি, গ্রাম- ধুপারহাট, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা- মৌলভীবাজার, বয়স-৫৫ বছর; আঃ আলীম (কয়েদি নং-৭৩৯৪/এ) পিতা- মৃত আঃ ছাত্তার, গ্রাম-হালুয়াপাড়া, থানা-মাধবপুর, জেলা-হবিগঞ্জ, বয়স- ৬৬ বছর; রাসু মাংকী মুণ্ডা (কয়েদি নং- ৭০১২/এ), পিতা-রনিয়া মাংকী মুণ্ডা, গ্রাম-সুরমা চা বাগান, থানা-মাধবপুর, জেলা-হবিগঞ্জ, বয়স-৬১ বছর; গোপাল মাংকী মুণ্ডা (কয়েদি নং-৭৭৫০/এ), পিতা-আরজুন মাংকী মুণ্ডা, গ্রাম-সুরমা চা বাগান, থানা-মাধবপুর, জেলা- হবিগঞ্জ, বয়স-৬৬ বছর; বদরুল আলম খান (কয়েদি নং-৯২১২/এ), পিতা- আঃ কাদের খান, গ্রাম-গনিপুর, থানা- লাখাই, জেলা-হবিগঞ্জ, বয়স-৪৫ বছর; কবির হোসেন ওরফে কামরুজ্জামান (কয়েদি নং-১৮৮০/এ) পিতা-মৃত কেসমত আলী মণ্ডল, গ্রাম-দুর্গাপুর, থানা-শ্রীপুর, জেলা- মাগুরা, বয়স-৬৩ বছর; মান্নান গাজী (কয়েদি নং- ২৭২২/এ), পিতা-মৃত হাসেম গাজী, গ্রাম-শ্যামপুর, থানা-বাকেরগঞ্জ, জেলা- বরিশাল, বয়স-৬৪ বছর; মতলেব আলী মৃধা (কয়েদি নং-৯৯৮১/এ), পিতা-আর্শ্বেদ আলী মৃধা, গ্রাম-লোন্দা, থানা-কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী, বয়স-৬৬ বছর; আমির আলী মৃধা (কয়েদি নং-৬৯১৫/এ), পিতা-আর্শ্বেদ আলী মৃধা, গ্রাম-লোন্দা, থানা- কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী, বয়স- ৭৮ বছর; এনামুল হক (কয়েদি নং- ৭১৭০/এ), পিতা-এমদাদুল হক আকন, গ্রাম-কেশবপুর, থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী, বয়স-৫০ বছর; শাহজাহান মাঝি (কয়েদি নং- ৮৭৯৫/এ), পিতা-আর্শ্বেদ আলী মাঝি, গ্রাম-বোতলবুনিয়া, থানা ও জেলা-পটুয়াখালী, বয়স-৬৫ বছর; মো. নূরুল হক বেপারী (কয়েদি নং-৮০২৭/এ), পিতা-মৃত মোহন বেপারী, গ্রাম- সুজাইপাড়া দৌলতপুর, থানা ও জেলা- মাদারীপুর, বয়স-৬৫ বছর এবং মোল্যা মিজানুর রহমান ওরফে আবদুল্যা (কয়েদি নং-৮৭০১/এ), পিতা-মোল্যা মোসলেম উদ্দিন, গ্রাম-ঘুন্নিপাশা, থানা-ফুলতলা, জেলা-খুলনা, বয়স-৬০ বছর।

সুরক্ষা সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে অন্য কোনো কারণে আটক রাখা আবশ্যকতা না থাকলে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকালই সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোতে চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে।

Comments are closed.