সোনার রংয়ে রাঙানো জোড়া মঠ

রেজাউল করিম রাজা: সোনা রং জোড়া মঠবাংলাদেশের প্রায় সবখানেই ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আছে আমাদের দেশে, তেমন আছে মানুষের দ্বারা নির্মিত অনেক সুন্দর সুন্দর স্থাপনা। মানুষের তৈরি তেমন এক নিদর্শন সোনারং জোড়া মঠ। অষ্টাদশ শতাব্দীর স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন এ মঠ।

সোনারং জোড়া মঠ মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কালজয়ী বাঙালি সত্যেন সেনের সোনারং গ্রামে অবস্থিত। সোনারং জোড়া মঠটি ইতিহাসে জোড়া মঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও মূলত এ দুটি জোড়া মন্দির। বড়টি কালী মন্দির আর ছোটটি শিবমন্দির । তাই এই মঠ দুটিকে জোড়া মন্দিরও বলা হয়ে থাকে।

রূপচন্দ্র নামের এক হিন্দু বনিক তার বাবা ও মার স্মৃতি রক্ষার্থে এই মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। পাশাপাশি দুটি মন্দির হলেও একটি বড় ও অপরটি সামান্য ছোট। বড়টির উচ্চতা ১৫ মিটার। বড়টি পশ্চিম পাশে এবং ছোটটি পূর্ব পাশে অবস্থিত। বড়টি রূপচন্দ্র তার বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৮৪৩ সালে নির্মাণ করেন। আর ছোটটি নির্মাণ করেন ১৮৮৬ সালে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

চুন-সুড়কি আর ইট দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা দুটিরই প্রধান উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বারান্দা। মন্দির দুটির বারান্দা যথাক্রমে ১.৯৪ ও ১.৫ মিটার।

জোড়া মঠের দক্ষিণ পাশের বিশাল শান বাঁধানো পুকুর এবং ঘাট মন কাড়ে। বড় মন্দিরটি তৈরির সময় এ পুকুর খনন করা হয়েছিল বলেই ধারণা করা হয়।

সোনারং জোড়া মন্দিরের স্থাপনা থেকে অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে বিভিন্ন সময়ে। মন্দিরটির নিচের দিক থেকে সামান্য উঁচুতেই কারুকাজের মধ্যে তামার নানা নকশা ছিল। এই নকশার সঙ্গে ধাতব বস্তুর নকশাও ছিল। মন্দিরের ভেতরেও ছিল পাথরের মূর্তি। সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। মন্দিরের শিখরে অবস্থিত ত্রিশুলটি বাঁকা হয়ে আছে। ত্রিশুলটি অনেক উপরে থাকার কারণে কয়েকবার চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।

মন্দিরের দেয়াল অযত্ন অবহেলায় খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ধরেছে বড় ধরনের ফাটল। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলো রক্ষার্থে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না।

এই মন্দিরের উপরে দিকে রয়েছে ছোট ছোট বহু ছিদ্র। এই ছিদ্রগুলোকে নিজেদের বাসা বানিয়ে ফেলেছে ঘুঘু, শালিক ও টিয়াসহ নানা জাতের পাখি। এ কারণেই সোনারং জোড়া মঠ পাখির কলকাকলিতে সর্বদাই মুখরিত থাকে। সোনারং জোড়া মঠের সৌন্ধর্যের সাথে হরেক রকম পাখির গান আর দুষ্টুমিতে আপনার মন নিশ্চিত ভালো হয়ে যাবে।

সোনারং জোড়া মঠটি দেখতে হলে যেতে হবে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে। ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে চেপে টঙ্গীবাড়ী। টঙ্গীবাড়ী থেকে রিক্সা বা অটো রিক্সায় করে সহজেই চলে যেতে পারবেন সোনারং গ্রামে। সোনারং জোড়া মঠ দেখে দিনে দিনেই আপনি ঢাকায় ফিরে আসতে পারবেন।

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.