সিরাজদীখানে যৌতুকের জন্য শিক্ষিকাকে কুপিয়ে জখম করল পাষন্ড স্বামী

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদীখানের মালখানগর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে পাষন্ড স্বামী মশিউর রহমান মোক্তার(৪২) এর নির্যাতনে স্ত্রী নাটেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সানজিদা আক্তার রুপা (৩০) এর স্থান হলো হাসপাতালের বিছানায়। নির্যাতনের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে। সানজিদা আক্তার রুপা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, যৌতুকের জন্য নাটেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সানজিদা আক্তার রুপাকে (৩০) কুপিয়ে জখম করেছে পাষন্ড স্বামী মশিউর রহমান মোক্তার (৪২)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাত সারে ৩ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে তার বাবা সমন খান বাদী হয়ে বুধবার সিরাজদীখান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর পাষন্ড স্বামী পালিয়ে গেছে। সানজিদা আক্তার রুপা নাটেশ্বর গ্রামের মো. সমন খানের মেয়ে। পাষন্ড স্বামী মশিউর রহমান মোক্তার একই গ্রামের মৃত আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে।

আহতের বাবা ও ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, ‘৪ বছর যাবৎ নির্যাতন অত্যাচার করে আসছে। পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বেশ কয়েকবার সালিশ করেছি। ৪ বছর আছে মালখানগর কলেজ রোডে একটি দোকান করে দিয়েছি লোকসান দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছি তখন ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এরপর জুট ব্যবসার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলাম সেখানে ১ বছরে লোকসান দেখাল। তারপর নারায়নগঞ্জে বনফুল মিষ্টির এজেন্ট ৫ লাখ টাকা দিয়ে দিলাম। সেখানেও লোকসান দেখাল, তখন সালিশ করে ৩ লাখ ফেরত আনি ২ লাখ লোকসান দেখায়। ১ বছর বেকার থাকার পর একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চাকরি নেয়। সেখানে তার ভাল লাগে না আবার টাকা চায়।

এ নিয়ে স্বামি স্ত্রীর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ঝগড়া হয়। রাত ২ টার দিকে বড় একটি কাঁচির (কেচি) এক অংশ দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় পিঠের উপর বসে এলোপাথারী কোপাতে থাকে। তখন তাদের ছেলে-মেয়ে সৈকত (১০) ও মোসরাত (০৬) চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দুলাল হোসেন জানান, তার পিঠে, কাঁধে ও বাম হাতে ধারালো অস্ত্রের ৮ টি আঘাত রয়েছে। সব কটিতেই সেলাই করতে হয়েছে। চিকিৎসা চলছে, এখন সে আশঙ্কামুক্ত।

থানা অফিসার ইন-চার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্তে পুলিশ পাঠিয়েছি। আহতকে হাসপাতালে গিয়ে আমাদের অফিসার দেখে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রাইম ভিশন

Comments are closed.