ফরমালিনমুক্ত টমেটোর বাগান, ভাগ্য বদলেছে কৃষকের

মোজাম্মেল হোসেন সজল: যেখানে এক সময় আলু চাষ হতো সেই জমিতে কৃষকেরা এখন টমেটো চাষ করছেন। কোনো লোকসান গুনতে না হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় টমেটো চাষ বাড়ছে। এবার কৃষকেরা সোনালী জাতের টমেটো চাষ করেছেন। তাও আবার সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত। এবার টমেটোর ফলনও হয়েছে ভালো।

মুন্সীগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আলুতে কৃষকেরা কখনো লাভ আবার কখনো লোকসানের সম্মুখিন হওয়ায় এ জেলার কৃষকেরা একই জমিতে টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

এদিকে, জেলা কৃষি কর্মকতা বলেছেন, আলু চাষে লোকসানের আশংকা থাকায় এবং টমেটো লাভজনক হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা টমেটো চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বিক্রি করে দামও পাচ্ছেন প্রচুর।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলায় এবার টমেটো চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরের বিভিন্ন জমিতে বাঁশের খুটি, সুতলি, কটসূতা ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেছেন। এর জন্য কৃষকদের আর্থিক খরচ যেমন বেশি পড়েছে তেমনি টমেটোর ফলনও হয়েছে বেশি।

গত ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস আগে মুন্সীগঞ্জ সদরের মহাকালী ইউনিয়নের দক্ষিণ মহাকালী গ্রামের সাতানিখিল চকে অত্যন্ত ৪০-৫০ জন কৃষক সারিবন্ধভাবে টমেটো চাষ করেন। টমেটোর জমি দেখলে মনে হবে যেন টমেটোর বাগান। গাছে যেন টমেটোর সমারোহ। প্রতিদিনই মণে মণে বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এই টমেটো বিক্রি শেষে তারা একই জমিতে করলা ও কহি চাষ করবেন। মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জমিতে এসেই পাইকারী দরে টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছর জেলায় ১৫৩ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছিলো। এই বছর তা বেড়ে ২০২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭৭ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। গত বছরে প্রতি হেক্টরে ৪০ টন করে টমেটো হয়েছিলো।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, পাকানোর জন্য মুন্সীগঞ্জের টমেটোতে কোনো ধরণের কেমিকেল বা ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। আলুর চেয়ে বেশি লাভবান হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা টমেটো চাষ করছেন। এই টমেটো সম্পুর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্য বান্ধব।

পূর্ব পশ্চিম

Comments are closed.