পদ্মা সেতুর পুনর্বাসন কেন্দ্র্রে ৫টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্বোধন

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ৫টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে একযোগে চালু হলো ৫টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। রোববার মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ ও যশলদিয়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন পদ্মাসেতু প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর এ্যডমিন ও যুগ্ম সচিব দেওয়ান সায়েদুল হাসান।

এ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) মো. তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রখেন, ইনস্টিটিউশনাল ডেভলপমেন্ট স্পেশালিস্ট (হেলথ) ডা. একেএম শামসুদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল আলম, উপ-পরিচালক (পুনর্বাসন) মো. ভিখারুদ্দৌল্লা চৌধুরী উপজেলা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা. হুমায়ন কবির, মেদিনী মন্ডল ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খান, কুমারভোগ ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফেরদৌস তালুকদার।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. এনামুল হক। এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রিসোর্স ইন্টেগ্রেশন সেন্টার (রিক) ও সাবলম্বী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (এস এস ইউএস)।

রিক-এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (প্রকল্প উন্নয়ন) মে. হানিফ মিয়া জানান, প্রতিটি প্রথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল থাকবে মোট ৯ জন। এর মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার, উপ-মেডিকেল অফিসার ১ জন, নার্স ১ জন, ফার্মাসিস্ট ১ জন, ক্লিনার ১ জন, কম্পিউটারিস্ট ১ জন, গার্ডেনার ১ জন, পিয়ন ১ জন ও নাইট গার্ড ১ জন।

প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মোট রুম রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে কম্পিউটার অপারেটর রুম একটি, মেডিকেল অফিসার রুম একটি, উপ-মেডিকেল অফিসার রুম ১টি, সিনিয়র স্টাফ ১টি, ফার্মাসিস্ট ১টি, ডিসপেনসার ১টি, স্ট্রোর ১টি, ওয়েটিং রুম ১টি, বাড়তি ১টি ও ২টি টয়লেট রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কোন পুর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নয়। এখান থেকে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, স্বাস্থ্য সচেতনামূলক পরামর্শ ও কার্যক্রম, টিকাদান কর্মসূচি ও রেফারেল সার্ভিস দেয়া হবে। রোগীদের বড় কোন সমস্যা থাকলে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ঢাকায় রেফারের পরামর্শ দেবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। উদ্বোধনী দিনেই রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বলতে গেলে একেবারে ঘরের মধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্র। তাই এ সব পূনর্বাসন কেন্দ্রেই লোকজনের আনন্দের জেনো সীমা নেই।

এর আগে গত শনিবার লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাসপাতালগুলোর নবনিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফদের এক অবহিতকরণ সভা হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, পাঁচ পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচটি প্রথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রই রোববার চালু করা হলো। পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্যই এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, এনজিও ‘রিক’এই পাঁচটি হাসপাতালের স্বাস্থ্য উপকরণ-সরঞ্জামাদি এবং চিকিৎসক নিয়োগের কাজ করছে। এ পাঁচটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র হচ্ছে : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ও যশলদিয়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে, মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্র, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা পুনর্বাসন ও পশ্চিম নাওডোবা পুনর্বাসন কেন্দ্র।

পরিকল্পিত এবং আধুনিক নানা সুবিধা সংবলিত পুনর্বাসন কেন্দ্রেগুলোতে এখন প্রাণের স্পন্দন। পরিবারগুলোর বসবাসের পর নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখানে। পদ্মা সেতু তৈরি ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় এমন আরও কিছু করা হচ্ছে। এর আগে পদ্মা সেতুর ৪টি পুনর্বাসন স্কুল চালু হয়েছে।

বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *