শ্রীনগরে আওয়ামী লীগ কর্মী আলেক হত্যার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে আওয়ামী লীগ কর্মী আলেক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এবং থানা ঘেরাও করেছে ঐ এলাকার কয়েকশ নারী পুরুষ। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার কলাপসিবল গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শনিবার সকাল ৯ টায় উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের সেলামতি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভকারিরা ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে এসে শ্রীনগর থানা ঘেরাও করে। এসময় তারা আলেক হত্যাকারীদের ফাসির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা থানার কলাপসিবল গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার উত্তর সেলামতি গ্রামের আলেক বেপারী (৪০) কে ইউপি নির্বাচনে বিরোধীতার জের ধরে ফাঁকা রাস্তার মধ্যে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ওই দিনই রাত দুইটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আলেক বেপারী স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এঘটনায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রতন মিয়া সহ ৮ জনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে সেলামতি বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে চেয়ারম্যান বাড়ী সংলগ্ন কাঠের পুল এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত আলেক বেপারীকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে যখম করে। এসময় এক পথচারীর টর্চ লাইটের আলো দেখে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ২ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যৃ হয়।

নিহতের স্ত্রী ইয়াছমিন বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ন্ওেয়ার সময় তার স্বামী বলেছেন বাজার থেকে আসার পথে এলাকার সাগর,আবুল,রনি,সোনাজদ্দিন মেম্বার সহ আরো কয়েকজন মিলে তাকে কুপিয়েছে । তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, বিগত ইউপির নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী রতন চেয়ারম্যানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার স্বামীর সাথে চেয়ারম্যান গ্রুপের বিরোধ তৈরি হয়। একারণে রতন চেয়ারম্যানের লোকজন আমার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। ইরফাদ (১৬), ইকবাল (১০) ও হামীম (৪) নামে আলেক বেপারীর তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। আলেক বেপারী সেলামতি এলাকার মৃত ফরিদ বেপারীর ছেলে।

এ ব্যাপারে শ্যামসিদ্ধি ইউপি চেয়ারম্যান ও সেলামতি গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়া বলেন, আলেক বেপারীর সাথে আমার কোন বিরোধ ছিলোনা। হত্যাকারীরা আমার লোক নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের মধ্যে সাগর ও সোনাজদ্দিন মেম্বার ছাড়া সকলেই ঢাকায় বাসবাস করে।

শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন,মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।