শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮২ জনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন ৩ মার্চ রাতে মামলা দুটি রেকর্ড করেন। মামলা নম্বর ২৪ ও ২৫। স্থানীয় এমপি গ্রুপের পক্ষে মামলার বাদী হয়েছেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহজাহান দেওয়ান ও গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের পক্ষে মামলার বাদী হয়েছেন সরকারী শ্রীনগর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম লিমন। মামলার এজাহারে উভয় পক্ষই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার ফেষ্টুন ছিনিয়ে নেওয়া ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তাছাড়া দুই পক্ষ গোলাগুলির অভিযোগ করলেও পুলিশ বলছে এরকম কোন তথ্য এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। শ্রীনগর থানার এসআই নুরুল কাদির সৈকত দুটি মামলারই তদন্ত করছেন।

শ্রীনগর থানা সূত্রে জানাগেছে, জেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান মামুনকে প্রধান আসামী করে এমপি গ্রুপের দায়ের কৃত এজাহারে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান জিঠু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ শিকদার পনির, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির শেখ, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এসএম মুরাদ হোসেন, সহসভাপতি শহিনুর আলম শাহিন, শ্রীনগর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম লিমন সহ মোট ২৯ জনকে আসামী করা হয়েছে।

অপরদিকে, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক জুয়েল লস্করকে হুকুমের আসামী করে এজাহারে সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রাকিবুল হাসান রাকিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটু, উপজেলা ছাত্রলীগের এমপি সমর্থিত গ্রুপের সভাপতি ও বীরতারা ইউপি চেয়ারম্যান আজিম হোসেন খান, ছাত্রলীগ নেতা পাভেল মোল্লা, অনিক ইসলাম, যুবলীগ নেতা স্বপন, রতন শাহ সহ ৫৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগ নেতা গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়।

পরে স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের কোন গ্রুপিং নেই এবং কোন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেনি। এর চারদিন পরই এমপি গ্রুপ ও গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শ্রীনগর থানায় মামলা রেকর্ড হল।