শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলা-গুলি

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলা-গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় এম রহমান শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের দোকানে ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। রবিবার বেলা বারটার দিকে এম রহমান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আকস্মিক এ ঘটনায় শ্রীনগর বাজার ও আশপাশের এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। সংঘর্ষ থেমে গেলেও এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এম রহমান শপিং কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের লোকজন মিছিল বের করে। এসময় স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ওই পথ দিয়ে আসার সময় মিছিলের কারণে তার গাড়ি আটকা পরে। খবর পেয়ে ঘটনা স্থল থেকে তিনশ গজ দুরে ঝুমুর হলের সামনে অপেক্ষারত এমপি গ্রুপের লোকজন তাকে এগিয়ে আনতে যান। এসময় দুইগ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। পরে এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ঝুমুর হলে অবস্থান নেন।

একঘন্টা ব্যাপী দুই গ্রুপে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলা-গুলির ঘটনা চলে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ অসহায় হয়ে পরে। পরে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষে এমপি গ্রুপের হামিদুল্লা খান মুন, শাহজাহান দেওয়ান, সোহেল শাহরিয়া, নাজমুল সরদার ও কবির গ্রুপের মিন্টু এবং শহীদ সহ দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সিরাজদিখান সার্কেলের এএসপি কাজী মাকসুদা লিমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা পুলিশ লাইন থেকে শ্রীনগরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের নেতা ও জেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান মামুন দাবী করেন, পুলিশ প্রহরায় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লোকজন উস্কানি দিয়ে সংঘর্ষ শুরু করে। এসময় এমপির লোকজন পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। আমাদের লোকজন প্রাণ বাচাঁতে মার্কেটের ভেতর আশ্রয় নিলে তারা মার্কেটে ও আশপাশের দোকানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে তার মালিকানাধীন ঐ মার্কেটের প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অপরদিকে এমপির লোকজন দাবী করেন, গোলাম সারোয়ার কবিরের লোকজনই প্রথমে এমপির গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে এবং উস্কানী দিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত করে। তারা এমপির লোকজনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।

পরে স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের কোন গ্রুপিং নেই। তাছাড়া কোন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেনি।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, স্থানীয় এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে দুই গ্রুপের কেউ গুলি করেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *