হাঁস পার্টির আপ্যায়নে তৃপ্ত জাপান প্রবাসীরা

রাহমান মনি: বারো রকমের মানুষ এই প্রবাসী সমাজে। এখানে যেমন চেয়ারের জন্য কোন্দল আছে, তেমনি চেয়ারবিহীন সম্প্রীতিও রয়েছে। কেউ খেতে পছন্দ করেন, কেউবা খাওয়াতে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে টোকিওর কিতা সিটির হিগাশি জুজো’র কিছুসংখ্যক উদ্যমী যুবকরা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে যে আয়োজনটি গত তিন বছর যাবত করে আসছেন তা এক কথায় অতুলনীয়। কোনো প্রকার নেতৃত্ব, স্বার্থ বা আবেদন নেই এই আয়োজনে।

২০১৫ সাল থেকে জাপানে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভুঁড়িভোজের জন্য অভিনব এই আয়োজনটির নাম দেয়া হয়েছে হাঁস পার্টি। বেশ কয়েক বছর ধরে কয়েকজন বন্ধু মিলে শুরু করলেও ২০১৫ সালে একান্ত নিজেদের পরিচিতদের দাওয়াত করে ভুঁড়িভোজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১৬ সালে নিজ ঘরোয়ানার বাইরে গিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির নেতৃবৃন্দদের দাওয়াত করা হয় হাঁস পার্টিতে। ফলে কলেবর কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

এ বছর রীতিমতো আন্তর্জালে ঘোষণা দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হিগাশি জুজোর ফুরে আইকানে আয়োজিত এ বছরের আয়োজনে প্রায় ৩০০ লোককে আপ্যায়িত করা হয়। যারা হাঁসের মাংস পছন্দ করেন না বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের সম্মানার্থে মেন্যুতে ভিন্নতা রাখা হয়। তবে, নামের সার্থকতার জন্য মূল মেন্যু হাঁসের মাংসের সঙ্গে রুটি সালাদ এবং অন্যান্য। এছাড়া কোমল পানীয় তো ছিলই। দিনটি ছিল ১২ মার্চ ২০১৭, রোববার।

আয়োজনটির বিশেষত্ব হলো, আয়োজকদের মধ্যে নেতৃত্বের যেমন দৌড় নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এবং সমধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তেমনি, আগত অতিথিদের জন্যও বিশেষ কোনো আসন বা শ্রেণিবিন্যাস রাখা বা করা হয়নি। আগত অতিথিরা সবাই সমান বিবেচনায় রেখে আসন বিন্যাস তাদের উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাই অতিথিরা নিজ পছন্দমাফিক আসনে বসে উপভোগ করেছেন।

যেকোনো আয়োজনের আয়োজক সংগঠন বা একক আয়োজক থাকলেও হাঁস পার্টির আয়োজনের কোনো আয়োজক সংগঠনের ব্যানার ছিল না। হিগাশি জুজোর বাসিন্দাদের আয়োজক বলা হলেও এর পেছনে ‘রংধনু নামে নয়, তারা এটিকে আমরা ক’জন নামেই অভিহিত করতে পছন্দ করেন। আয় এর নেপথ্যের কারিগর যাদের নাম না বললেই নয়, তারা হলেন নুর খান রনি, আবুল খায়ের, তৌহিদুল আলম রিপন, আব্দুল জাব্বার, মো. কাউছার খান, ওমর ফারুক রিপন, তৌহিদুল ইসলাম হেলাল, ফয়সাল সালাউদ্দিন, রাসেল মাঝি, মোস্তাফিজুর রহমান জনি, মো. মুজাহেদুর রহমান জুয়েল, মো. হুমায়ুন কবির, সহযোগিতায় ছিলেন আরো অনেকেই।

হাঁস পার্টির এবারের আয়োজন কেবল ভোজন পর্বেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, আগত অতিথিদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছিল বাংলাগানের কারাওকে। অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি অ্যামেচার শিল্পীদের গানও দর্শক শ্রোতারা উপভোগ করেন। কারাওকেটি মূলত ঢালী বাবুর পরিচালনায় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো উদ্দেশ্য বা নিজেদের জাহির করার জন্য এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন নয়। সবার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা, একত্রিত করে ভিন্নধর্মী বিনোদন দেওয়া-ই এর উদ্দেশ্য। আর সাধারণত হাঁস বাসায় তেমন একটা রান্না হয়ে ওঠে না ঝামেলার জন্য। তাই কনকনে এই শীতে হাঁসের মাংস খেয়ে চাঙ্গা করানোই আরেকটি উদ্দেশ্য।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.