ঢাকায় অপহৃত কিশোরী সিরাজদিখান থেকে উদ্ধার

প্রবাসী প্রেমিকের প্ররোচনায় ঘর ছেড়ে অপহরণের শিকার হয়েছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর পুবাইল এলাকার সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক কিশোরী। ঘরছাড়ার চার দিন পর মুন্সীগঞ্জ থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত প্রবাসী প্রেমিকের বোনজামাইকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মো. এনায়েতের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীর স্থানীয় ব্যবসায়ীর মেয়ে সাদিয়া হোসেনের সম্পর্ক চলছিল দেড় বছর ধরে। সম্প্রতি এনায়েত তার বোনজামাইকে দিয়ে সাদিয়ার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাদিয়ার মা-বাবাকে বিয়েতে বাধ্য করতে ফন্দি সাজাতেহ থাকে এনায়েত।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ মার্চ এসএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি না ফিরে পালিয়ে যায় সাদিয়া। প্রথম দিন ধোলাইপাড়ে বান্ধবীর বাড়িতে কাটলেও পরবর্তীতে এনায়েতের পাঠানো লোকের সঙ্গে গোপন স্থানে চলে যায় সে। এরপর থেকেই তার মা-বাবাকে ফোনে চাপ দিতে থাকে প্রবাসী এনায়েত ও তার বোনজামাই রোমান তালুকদার। তাদের দাবি, এনায়েতের সঙ্গে সাদিয়ার সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়ে দিতে হবে। এই শর্তে রাজি হলে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর ১৩ মার্চ সাদিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই বিল্লাল আল আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার দায়িত্ব পেয়ে আমরা প্রথমে সাদিয়ার নম্বর ট্র্যাক করি। আমরা দেখতে পাই সাদিয়ার কাছে সব ফোন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে। শুধু একটা ফোন অন্য নম্বর থেকে আসে। সেই নম্বরের কললিস্ট যাচাই করে দেখা গেছে, ওই নাম্বারেও অনেকবার দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কল এসেছে।’

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় নম্বরটির লোকেশন ছিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা। ১৩ মার্চ রাতেই রওনা দিয়ে স্থানীয় থানা থেকে ফোর্স নিয়ে সিরাজখান থানার শেলধি গ্রামে পৌঁছাই। তখন মধ্যরাত। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু হয়। একই সঙ্গে গ্রামের মসজিদেও ঘোষণা দেওয়া হয় বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। এ কারণে বাড়ির চারপাশে গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।’

দীর্ষ দুই ঘণ্টা বোঝানোর পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় গ্রামের লোকজন ঢাকা থেকে আসা পুলিশকে সত্যিকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে মেনে নেয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান এসআই বিল্লাল। এরপর বাড়ির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে আটক করা হয় এনায়েতের বোনজামাইকে। তার দেওয়া তথ্যমতে অন্য একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সাদিয়াকে।

সাদিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে কৌশলে বুঝিয়ে অপহরণ করেছিল এনায়েত ও তার বোনজামাই। তারা আমার মেয়েকে জিম্মি করে আমাদের কাছ থেকে বিয়ের সম্মতি আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এর আগেই তাদের গ্রেফতার করেছে।’

মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা বিল্লাল আল আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আদালতের মাধ্যমে সাদিয়াকে তার মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। গ্রেফতারকৃত আসামী রোমান বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে।’

বাংলা ট্রিবিউন

Comments are closed.