প্রবাসী জীবনের সাতকাহন : হল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে

রাহমান মনি: বর্তমানে জাপানে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হল পাওয়ার চেয়ে বৈধভাবে জাপানে থাকার ভিসা পাওয়া অনেক সহজ। আর বর্তমানে যে হারে জাপানে প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠনের সংখ্যা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিমাণ বাড়তেছে তাতে হয়তো বা ভবিষ্যতে হল পাওয়ার চেয়ে জাপানিজ পাসপোর্ট পাওয়াটাও সহজ হতে পারে। সত্যিই যদি তাই হয় তাহলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। কারণ, সত্যিকার অর্থেই হল সংকটে পড়েছে প্রবাসীরা। এই সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে দিন দিন।

এতে করে সত্যিকার অর্থেই প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে এবং দেশীয় সংস্কৃতি লালন ও বিকশিত করার জন্য যারা নানা ধরনের আয়োজন করে থাকেন তারা পড়েছেন বিপদে। আর এই জন্য দায়ী অসচেতনতা বা সাবধানতার অভাব যাকে বলে জাপানি ম্যানার না মানার প্রবণতা।

জাপানে অনেক প্রবাসীই আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করছেন। গাড়ি, বাড়ি বিয়েসূত্রে নারী, সমাজে স্ট্যাটাসসহ অনেক কিছুরই মালিক বনে গেছেন। কিন্তু, জাপানিজ ম্যানার বলতে শিক্ষণীয় একটি সংস্কৃতি রয়েছে তা রপ্ত করতে পারেননি। জাপানিজ ম্যানার হচ্ছে বিশ্ব সেরা। আর এই বিশ্ব সেরা ম্যানারটি শিখতে প্রবাসীদের হয়তো বা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পার হতে হবে। আমি ঢালাওভাবে সব প্রবাসীকে এককাতারে দাঁড় করাচ্ছি না বা দায় চাপাচ্ছি না। সেটা চাপানোও ঠিক হবে না। কারণ, এই জাপানেই অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন যিনি বা যাহারা জাপানিদের মতো পানচুয়েল, ম্যানারও মেনে চলেন। উল্টো জাপানিদের কাছেই মডেল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু তাদের সংখ্যাটা কত?

এক মণ দুধে এক ফোঁটা চনা দিলে সম্পূর্ণ দুধ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এক মণ চনার মধ্যে যদি এক ফোঁটা দুধ দেয়া হয় তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়ায়? চনার মধ্যে দুধের ফোঁটাটা বিলীন হয়ে যায়। সোজা কথায় নিজের অস্তিত্ব হারায়। তাই নিয়ম না মানাদের মধ্যে পড়ে নিয়ম মানারা তেমন একটা সুবিধা করতে পারে না। আর ইংরেজিতে একটা কথা আছে যার বাংলায় অর্থ হলো ‘সব ভালো যার শেষ ভালো’ তার। প্রবাসীদের আয়োজনে শেষটা আর ভালো হয়ে ওঠে না। জাপানের রিসেট পলিসি মানা হয়ে ওঠে না। একটি হল ব্যবহার করার পর পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে (রিসেট) দেয়ার নিয়ম থাকলেও যথাযথ তা মানা হয় না।

প্রবাসীদের আয়োজনে কিছুসংখ্যক লোক আসলেই সত্যিকার অর্থে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। প্রচুর পরিশ্রমও করেন। কিন্তু পরিশ্রমের ফল ঘরে আসে না। কারণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও যথা সময়ে হল ত্যাগ না করার প্রবণতা। এতে করে শেষটাতে তাড়াহুড়া করতে হয়।

জাপানিজ হলগুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক
প্রবাসীরা সাধারণত যে সব হল ব্যবহার করে থাকেন সেগুলো হচ্ছে কাইকান, বুনকা সেন্টার, ফুরে-আইকান, কুমিন সেন্টার, শিমিন কাই, চিইকি সেন্টার। এর মধ্যে বুনকা সেন্টার হচ্ছে সংস্কৃতি শিক্ষা কেন্দ্র। খাদ্য সংস্কৃতি অর্থাৎ রান্না-বান্না শিখার জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম থাকে এখানে। কেবল উপাদানগুলো নিজেদের বহন করতে হয়। ছোট স্টেজসহ হল রুম, মিটিং রুম, শিক্ষা রুম, শিল্পকলা, চিত্রকলা সব ধরনের সংস্কৃতি শিখার উপকরণ এই বুনকা সেন্টারে থাকে।

কিছু কিছু হলে খাবারের অনুমতি থাকে। আবার কিছু কিছু হলে পানাহার একেবারেই নিষিদ্ধ। পানাহারের অনুমতি প্রাপ্ত হলগুলোতে আয়োজন শেষে উচ্ছ্বিষ্ট সবকিছু নিজ দায়িত্বে নিয়ে যেতে হয়।

এ হলগুলো সাধারণত তিনটি শিফটে ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। সকালের শিফট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। দুপুরের শিফট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং রাতের শিফট সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। একাধিক শিফট একসঙ্গে ভাড়া নেয়া হলে মাঝের সময়টা কাউন্ট হয় না, অর্থাৎ একনাগাড়ে হল ব্যবহার করা যায়।

হলগুলো সাধারণত ১০ মিনিট আগে খুলে দেয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবশেষ করে পূর্বাবস্থায় ফেরানোর পর চাবি বুঝিয়ে দিতে হয়। এর মধ্যে আবার কোনো কোনো হল বিশেষ করে বুনকা সেন্টারগুলো কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে সবকিছু বুঝে নেয়ার পর যাওয়ার অর্থাৎ হল ত্যাগ করার অনুমতি মিলে।

একেকটি হলে আবার একাধিক কামরা থাকে। তাই একই সময়ে একাধিক সংগঠনের ইভেন্ট থাকে। আবার একই সংগঠনও একাধিক কামরা ব্যবহার করতে পারে। লবি এবং ওয়াশরুম কম্বাইন্ড। অর্থাৎ সকলের ব্যবহারের জন্য। যদিও পর্যাপ্ত থাকে। এখানে কেউ কাউকে বিরক্ত করে না বা অন্যের বিরক্তির কারণ হয় না। সবাই সেই দিকটা বিশেষ খেয়াল রাখে। তাই অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে থেকে জড়ো হতে থাকেন আবার শেষ ওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে সবাই হল ত্যাগ করে যার যার গন্তব্যে চলে যান। আর বিশেষ দরকার হলে কোনো ফাস্টফুড, কফি শপ কিংবা রেস্তোরাঁয় বসে তা সেরে নেন।

কিন্তু কিছু কিছু আয়োজনে প্রবাসী ভাইয়েরা মনে করেন অর্থের বিনিময়ে হল ভাড়া নেয়া হয়েছে তাই নিজ ইচ্ছামতো ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময়ের বেশ আগে থেকেই জড়ো হওয়া শুরু হয় এবং আড্ডায় যেমন মেতে ওঠেন, তেমনি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও সহসা হল ছাড়তে চান না। আর এসব আড্ডায় গ্রাম্য রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত সব কিছুই উঠে আসে। এর মধ্যে জাকার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ফেসবুকে আপলোড করার জন্য সেলফি কিংবা ফটোসেশনের ঝামেলা তো রয়েছেই। কে কত তাড়াতাড়ি আপলোড করতে পারবে এই মনোবাসনা থেকে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন অনেকেই। হলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আর কাজ হবেই বা কেমনে? আয়োজকদের মধ্যেও যে সেলফি প্রিয়রা রয়ে যান।

সময় না মানার প্রবণতা
সময় না মানা নাকি বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ। আর এটাকে বৈধ করার জন্য নাম দেয়া হয়েছে বাঙালি টাইম। কয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করার রেওয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে। জাপানে একমাত্র উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ এবং প্রবাস প্রজন্ম যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু করে। অপ্রিয় হলেও সত্যি, অন্য সংগঠনগুলো তা করে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক এবং আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, মঞ্চে আসন বিন্যাস এবং বক্তব্যদাতাদের সংখ্যা এবং বাছাই করতেই হিমশিম খেতে হয়। পূর্বপ্রস্তুতি তেমন একটা থাকে না।

বাঙালিরা সময়মতো আসবে না এই ব্রত মাথায় নিয়েই অনুষ্ঠানের সময় ঠিক করা যেন আয়োজকদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই তারা অনুষ্ঠান ঘোষণা এবং শুরু করার বিষয়টি মাথায় রাখেন। এমনও দেখা যায়, হল প্রাপ্তির সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে এবং ওই শিফটেই হল বুকিং দেয়া হয়েছে। অথচ ৫টা থেকে অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জালে তা প্রচার শুরু করা হয়েছে। এতে করে যারা সময় মেনে চলেন তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একইসঙ্গে যারা দেরি করে আসেন তাদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে যারা সময়মতো আসেন তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়। এটাই নাকি বাঙালি সংস্কৃতি।

আয়োজকদের একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। তিনি আসবেন বলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি বরং অনুষ্ঠান উপলক্ষেই তিনি আসবেন। প্রধান অতিথির বেলায়ও একই নীতি প্রযোজ্য। কাজেই, তার অপেক্ষায় না থেকে অনুষ্ঠান যথাসময়ে শুরু করাটাই বাঞ্ছনীয়। আর জাপানের মতো দেশে যদি কেউ সময় মেনে চলতে না পারেন, ধরে নিতে হবে এটা তার ব্যর্থতা। এজন্য সবাইকে অপেক্ষারত রাখার কোনো মানে হয় না। আর যদি কোনো কারণে কারও বিলম্ব হয়েই থাকে তবে উচিত কৌতূহল বিষয়টা অন্যের কাছ থেকে জেনে নেয়া। এটাই জাপানি ম্যানার। কারণ, বিশেষ কোনো কারণে কারও কারো বিলম্ব হতেই পারে। অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিজ দায়িত্বে জেনে নেয়া উত্তম।

শিশুদের নিজ দায়িত্বে না রাখা
কিছু কিছু শিশু কিশোর রয়েছে আয়োজন স্থানটিকে তাদের খেলার মাঠ মনে করে বিভিন্ন খেলায় মেতে ওঠে। সন্তানদের ছেড়ে দিয়ে বাবা-মায়েরা অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মজে যান। তার সন্তানটি যে আরেকজনের বিরক্তির কারণ হতে পারে অথবা তাদের ছুটাছুটির কারণে বিপদ ঘটতে পারে সেদিকে ভ্রƒক্ষেপ নেই। বিপদ তো আর বলে কয়ে আসে না। নিজেদের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলে যতো টা-না বিপদ তার চেয়েও বেশি বিপদ অন্যের দুর্ঘটনা ঘটালে। তখন তার দায়ভার কার উপর বর্তাবে?

গত ৫ মার্চ টোকিও বসন্ত উৎসব নামে একটি আয়োজনে হলের ভেতর তিনটি ছেলে টেনিস বল ছুড়ে খেলছিল। একজন আরেকজনকে নিক্ষেপ করলে প্রায় সময় তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এদিক সেদিক লেগে দর্শকদের মাথার ওপর পড়তেছিল। সাউন্ড বক্স, লাইট কিংবা দেয়ালে বাড়ি খেয়ে আবার তা দর্শক সারিতে। এভাবে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যখন ঘটছিল তখন বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মানছিল না। তাদের সবার অভিভাবকরা বেশ উপভোগ না করলেও সন্তানদের খেলা দেখছিলেন দর্শক হিসেবে কিন্তু অভিভাবক হিসেবে একটি বারের জন্য তারা বারণ করেননি। তাদের মধ্যে কেহবা ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কেহবা গল্প গুজবে। সন্তানদের এহেন কৃতকার্যে যাদের চোখ খুলে না, তাদের চোখ খুলবেটা কে? পারিবারিক শিক্ষাই নাকি সবচেয়ে বড় শিক্ষা, একটি সন্তান তার পরিবারের কাছ থেকে সবচেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা পেয়ে থাকে।

অথচ এই ছেলে বা ছুটাছুটি করা শিশুগুলো তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোনো জাপানি অনুষ্ঠানে তার অভিভাবকরা যখন যোগ দেন; তখন এই শিশুরাই অভিভাবকদের অভিভাবক বনে যায়, জোরে কথা বলা, হাঁচি-কাশি দেওয়া কিংবা শিক্ষক কর্তৃক বেঁধে দেয়া কোনো নিয়মের বরখেলাপ হলে শিশুটি তখন তা শুধরে দেয়। জোরে কথা বলা থেকে বিরত রাখে। যে শিশুটি তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক নিয়ম মানতে পারে, সেই একই শিশু কেন তার অভিভাবক দেয় কথা শুনবে না?
কোনো কোনো অভিভাবক বলে থাকেন, আমার সন্তানটি এমনিতে চুপচাপ বসে থাকে, কথা শুনে, কিন্তু যখন সে আরেক জনকে দেখে তখন আর তাকে চুপ করে বসে রাখাটা কষ্টকর।

থামানো যায় না। বুঝেনই তো বাচ্চা মানুষ।
কথাটির সত্যতা আছে। কিন্তু খোড়া যুক্তি। সেই একই কথা তো অন্যের বেলায়ও প্রযোজ্য। যদি বলা হয় আপনার শিশুটির ছুটাছুটি দেখে অন্যরা উৎসাহ পায়, তখন বলার কী থাকবে?

অন্যের কাঁধে দোষ চাপানোটা যতো সহজ, নিজের কাঁধে দায় নেয়াটা ততোই কঠিন।

অপ্রিয় হলেও সত্যি, যেসব শিশুর মা জাপানিজ, আর যেসব শিশুদের মা বাঙালি হলের মধ্যে তাদের ছুটোছুটির ধরন দেখলেই বুঝতে পারবেন। খালি একটু চোখ কান খোলা রাখতে হবে। কারণ, একজন জাপানি মা তার সন্তানকে যতোটা পারা যায় সংযত রাখার চেষ্টা করেন, তা বাঙালি মায়েরা কখনোই করেন না। দু’একটি ব্যতিক্রম ছাড়া। আর এই ব্যতিক্রমগুলো যারা করে থাকেন তারাই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে ভূমিকা রাখেন।

একটি মাত্র ফোন
গ্রুপিং বাঙালিদের চিরাচরিত অভ্যাস। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা রেওয়াজটার রেশ প্রবাসেও বয়ে যায় বৈ কি! একই আদর্শ ও উদ্দেশ্যে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও নেতৃত্বের কোন্দলে হোঁচট খেলে পৃথক হয়ে যাওয়াটা আমাদের নীতির মধ্যেই পড়ে। এই জন্যই বলে একজন বাঙালি একা অনেকগুলো ভালো কাজ করতে পারেন। কিন্তু অনেকগুলো বাঙালি মিলে একটি ভালো কাজ করতে পারেন না। এখানেই বাঙালিদের সুনাম ও বদনাম সমান্তরালভাবে কাজ করে।

নিজের হাতে ক্ষমতা না থাকলে অথবা চেয়ারটি না পেলে এদিক সেদিক ফোন করে অনুষ্ঠান বানচালের ঘটনা সম্প্রতি নতুন সংযোজন। এইতো সেদিন একটি আঞ্চলিক সংগঠনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে একদল দূতাবাসে ফোন করে নিরাস করার চেষ্টা করে যেমন রুচির পরিচয় দেননি, তার চেয়েও বেশি বিকৃত রুচির পরিচয় দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য স্বশরীরের গিয়ে নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ জানানো এবং দুতাবাসের নামে অপপ্রচার চালানো। সেই একই লোক এর আগেও অন্যের ব্যক্তিগত আয়োজনেও পুলিশকে ফোন করে হল বরাদ্দ বন্ধ করানোর জন্য নির্দেশনা চাওয়া। যদিও তিনি সফল হননি। বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। কিন্তু বদনামটা নিজ দেশেরই হয়েছে। নিজের নাক কেটে অন্যের খানা ভঙ্গ করাতে গিয়ে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণœ করা হয়েছে এক্ষেত্রে।

হলের ভেতরের ম্যানার কতটা মানা হয়
যেসব হলে পানাহার-এর অনুমতি নেই সেই সব হলে পানাহার তো মামুলী ব্যাপার। এমনকি ধূমপান মুক্ত হলের ভেতরও অবাধে ধূমপান করতে গিয়ে হল কর্তৃপক্ষের ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে তা সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলছে। হলের আশপাশেও ধূমপান করে অবশিষ্টটা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন অথবা কফি ক্যানভয় ভেতরে ভরে এককোণায় রেখে নিরাপদে চলে যাওয়া মনে করলেও ধারণকৃত ক্যামেরায় তা ধরা পড়ছে।

বুনকা শেল্টারগুলোতে রান্না শিখার জন্য ৩০-৪০ জনের পারমিশন থাকলেও সেখানে শত শত মেহমানকে আপ্যায়ন করা হচ্ছে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সুস্বাদু খাবার দিয়ে। খাবারের আয়োজন করতে না পারলে লোক সমাগম হতে চায় না। অনেকে আবার ফোনে জেনে নেন খাবারের ব্যবস্থা আছে কিনা?

আয়োজকরা সামনের সারির কিছুসংখ্যক চেয়ার সংরক্ষিত করেন বিশিষ্ট জনদের জন্য। প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, ডোনার, দূতাবাস কর্মকর্তা বা বিশিষ্ট জনদের জন্য।

অতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে সংরক্ষিত লেখা সাঁটানোর পরও কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে নিজ আসন মনে করে বসে পড়েন কিছু ব্যক্তি। এতে করে নিজেকে ভারিক্কি মনে করেন এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনবরত প্যাচাল পারতে থাকেন। প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দিতে যান না পাছে সিটটি বেদখল হয়ে যায়। তার অবিরাম প্যাচালের যন্ত্রণায় আশপাশের লোকজন সরে যেতে বাধ্য হন।

বর্তমানে মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা অনেক সচেতন হয়েছেন। তারা তখন আর বাহিরে কর্মীসম্মেলন করেন না। কিন্তু কিছুসংখ্যক সৌখিন ফটোগ্রাফার এবং মডেলদের জন্য সারিবদ্ধভাবে ছবি তোলার হিড়িক চোখে পড়ার মতো। আর দর্শকদের চেয়ে সাংবাদিকদের সংখ্যা যে বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, সবাই ক্যামেরা নিয়ে ছুটোছুটি করায় অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য ব্যাহত হয়।’

আর এইসব কারণে হল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের কাছে আর হল দিতে চাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে প্রবাসীরা হলে আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়ে হয়তোবা মাঠে ময়দানে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বাধ্য হবেন ঘরোয়া আয়োজনের মতো আয়োজনেও। আর তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকবে হল সঙ্কট
rahmanmoni@gmial.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.