ট্রাফিক পুলিশ না হয়েও ট্রাফিক পুলিশের কাজ করে সংসার চালান যিনি

বৈখর গ্রামের মৃত্য ফজলুল বেপারির ছেলে মো: জাহাঙ্গীর তার নিরলস পরিশ্রম দিয়ে সারা দিন জেলার অন্যতম রাস্তাটি যানজট মুক্ত রাখার কঠিন কাজটি করছে। আসলেই আমাদের সমাজ বাস্তবটা দেখতে খুবই সহজ তবে সরল মনে তা উপলদ্ধি করতে হবে। একজন জাহাঙ্গীর আমাদের এই সমাজেরই যুবক। দেখতে সাদা মাটা লোক, তার মাকে নিয়ে ৫ জনের সংসার চলে তার যানজট নিরসন চুক্তির ম্যধমে। ১০টি অটো রিকশা লাইন হতে দৈনিক চাঁদা হিসেবে পাওয়া টাকা দিয়ে চলে তার সংসার।

আসলেই তাহার কোন চাহিদা বলতে তেমন কিছুই নাই, যানজট মুক্ত থাকলেই একজন ভদ্রলোক এডভোকেট ১০/৫ টাকা জাহাঙ্গীর এর হাতে দেন, এতে ছেলেটি বিরাট খুশী হয়ে কাজের প্রতি সদয় আরো একধাপ বেড়ে যায়। আমাদের বর্তমান রাস্তার যানজট হচ্ছে বড় ধরনের এক সমস্যা, আর এই সমস্যাটি সারা দেশ জুড়েই রয়েছে। যখন সকাল সাড়ে নয়টা ঠিক তখন পুরাতন কাচারী, পৌরসভা এলাকা যানবাহনে ভরপুর। আমাদের জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় সাহেবকে অফিস যাওয়ার রাস্তা সচল রাখতে ৫/৭ জন ট্রাফিক মিলে যান মুক্ত রাখতে মরিয়া হয়ে থাকেন। আমাদের ছোট এই শহরে স্থানীয় গাড়ি চালক বলতে নাই। যারাই গাড়ী চালক, বাহির জেলা থেকে আমাদের এই জেলাতে কাজ-কর্ম করেন কিন্ত আমাদের ট্রাফিকদের কথা ও ট্রাফিকদের বাঁশির আওয়াজ গাড়ীর চালকরা একটু কম শুনতে পান। বলতে পারি পুরাতন কচারী, সুপার মার্কেট, মুক্তার পুর, সিপাহী পাড়া, হাতিমারাসহ অনেক জায়গা থেকে একটু ভালো আছি। আমাদের ভালো থাকাটা একজন জাহাঙ্গীর এর উপর থাকলেই কি হবে? সবার সাথে হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, একে অপরে প্রতি শ্রদ্বাশীল থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের ব্যাধি মুক্ত যানজটমুক্ত করার ঐক্যে থাকাটা জরুরী।

যাত্রী এড. নাজমুল হক জানান, যেখানে কাচারী চত্বরে ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন থাকার পরও যানজট লেগেই থাকে। সিপাহী পাড়া মোড়ে ২/৩জন ট্রাফিক পুলিশ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে যানজট মুক্ত করেন সেখানে জাহাঙ্গীর একাই কোটচত্বরের যানজট মুক্ত রাখেন, আর এর জন্য ১০ টাকা করে অটো প্রতি চাঁদা নেন তিনি। কোন বেতন ছাড়া এই ১০টাকা চাঁদা তুলে যে কাজটি করে যাচ্ছেন তিনি সরকারি কর্মকর্তারা সরকারের বেতন পেয়েও সে কাজটি করতে পারছেন না।
যাত্রী আলমগীর হোসেন জানান, আসলেই জাহাঙ্গীরের জন্য কষ্ট লাগে তবুও ওকে দেখলে ভালো লাগে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে ১০ টাকা করে চাঁদা তুলে সংসার চালায়। আসলে এমন ছেলেরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

যাত্রী ইব্রাহীম মোল্লা জানান, কোট চত্বরে যে ছেলেটি যানজট মুক্ত রাখার কাজ করে আসলেই সে একটি মহৎ কাজ করে চলছে নিজের অজান্তেই। বিনিময় সে কি পাচ্ছে না পাচ্ছে জানি না তবে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে সে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক সার্জন কামরুল ইসলাম বেগ জানান, জাহাঙ্গীর ছেলেটি খুবই ভালো। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই।

ক্রাইম ভিশন

Comments are closed.