মিষ্টার মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের মহিউদ্দিন

কামাল আহম্মেদ: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীফ সিকিউরিটি অফিসার ছিলেন আলহাজ্ব মোঃ মহিউদ্দিন। সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মহিউদ্দিন, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সুঠাম দেহের অধিকারী মো: মহিউদ্দিন একজন স্বাস্থ্য সচেতন সু-পুরুষ। বাল্যকাল থেকেই তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, সাঁতার কাঁটতেন। সাঁতারে পারদর্শী মো: মহিউদ্দিন তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান সাঁতার প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।

খেলাধূলায় পারদর্শী মোঃ মহিউদ্দিন ছাত্রজীবন থেকে খেলাধূলার পাশাপাশি সমাজ সেবামূলক কাজে জড়িত ছিলেন। সবসময় নিরিহ ও অসহায় অধিকার বঞ্চিত মানুষের ন্যায় বিচার কায়েম ও অধিকার রক্ষায় তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে মানুষের পাশে থাকতেন।

তিনি রাজনীতিকে মানুষের জন্য কল্যানকর ও সেবাধর্মী কাজের মূল অবলম্বন মনে করতেন। ১৯৬০ দশকে বঙ্গঁবন্ধু যখন এই অঞ্চরের মানুষের অধিকার রক্ষায় পাক সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে লড়াই-সংগ্রামে অবতীর্ন হন। পাক সামরিক শাসকদের জুলুম,অন্যায়-অত্যাচার,নির্যাতনের বিরুদ্ধে রোখে দ্বাড়ানোর আহবান জানাতে যখন বঙ্গবন্ধু সারাদেশে সভা-সমাবেশ করে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষদের সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন, তখন থেকেই মোঃ মহিউদ্দিন

বঙ্গবন্ধু আদর্শ ও দর্শনের প্রতি অনুপ্রনোদিত হয়ে বঙ্গবন্ধু আহবানে ছাত্রলীগ রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১৯৬০-৬১ সাল হবে,মোঃ মহিউদ্দিন মুন্সীগঞ্জ সরকারী হরগঙ্গা কলেজের ছাত্রকালিন সময় থেকেই তিনি একক প্রচেষ্ঠায় হরগঙ্গা কলেজে ছাত্রলীগকে সু-সংগঠিত করেন।

ইতিমধ্যে মোঃ মহিউদ্দিন তার কল্যানধর্মী কাজের মধ্যে দিয়ে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের ভালবাসা ও সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন।

দিন দিন ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। তখন মুন্সীগঞ্জ মহাকুমা প্রশাসক (ঝ.উ.ঙ) ছিলেন মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম। তিনি ছিলেন একজন সি.এস.পি (ঈ.ঝ.চ) অফিসার।

মহাকুমা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক সচেতন, রুচিবান প্রশাসক। তিনি মোঃ মহিউদ্দিন এর সুন্দর, সুঠাম দেহ দেখে বিমোহিত হয়ে পড়েন। তাছাড়া তার সমাজ সেবামূলক কাজ ও আচার, আচরণ ও ব্যবহারে মহকুমা প্রশাসক মহোদয় খুবই খুশী হন।

তৎকালিন মুন্সিগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক সাহেব, মহকুমার সার্বিক বিষয় নিয়ে এক সভার আয়োজন করেন, আলোচনার এক পর্যায় মোঃ মহিউদ্দিনের বিষয় চলে আসে, তখন উপস্থিত মহকুমার গন্যমান্য ব্যক্তিগন সবাই মোঃ মহিউদ্দিনের সুঠাম দেহ ও সামাজিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।

সেই সবায় মহকুমা প্রশাসক মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মোঃ মহিউদ্দিনকে মিঃ মুন্সিগঞ্জ সম্মানে ভুষিত করার প্রস্তাব রাখেন, সভায় উপস্থিত সকলে মহকুমা প্রশাসক মহোদয়ের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন এবং পববর্তীতে মহকুমা প্রশাসক মহোদয় মোঃ মহিউদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিঃ মুন্সিগঞ্জ সম্মানে ভুষিত করেন।

৬০ দশক-এ মুন্সিগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান মোঃ মহিউদ্দিনকে মিঃ মুন্সিগঞ্জ খেতাবে ভুষিত করার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রচার না পাওয়ার মূল কারন বলে আমি মনে করি,১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ, ৬৬ সনের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯এর গন অভুধ্যান, ৭০এর নির্বাচন, ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পুরো বাঙালী জাতি আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত ছিল।

তাছাড়া মোঃ মহিউদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর চীফ নিরাপত্তা অফিসার,সার্বক্ষনিক বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গি। সঙ্গতকারনেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর খুনীরা মোঃ মহিউদ্দিনকে কারাবন্ধি করে রাখে।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শাসন,সামরিক শাসক এরশাদের স্বৈর-শাসন, খালেদার অপ-শাসন ও বি.এন.পি জামাত জোটের দুঃশাসন আমলে এই বিষযটি কোন মহল আমলে নেননি,তাছাড়া রাজনৈতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন, প্রতিহিংসা ও হীনমন্যতার বিষয়টিও প্রচার না পাওয়ার কারন হতে পারে।

আমি মনে করি মোঃ মহিউদ্দিন বা মিঃ মুন্সিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ জেলার ইতিহাসের একটি অংশ,তবে আমি আশাবাদি আমাদের মুন্সিগঞ্জেও সত্যিকারের ন্যায়-পরায়ন, ভাল মানুষের অভাব নেই,যারা মোঃ মহিউদ্দিনকে নিয়ে ইতিহাস রচনা করবেন, যে ইতিহাস জেনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তরুনরা উপকৃত হবে।

সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর।

Comments are closed.