পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বিজি প্রেস থেকে

করা নিরাপত্তার পরও প্রত্যেকটি পাবলিক পরিক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর করা নির্দেশনা সত্বেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না কোনভাবেই। মূলত পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় বিজি প্রেস থেকে। প্রেসের এক কর্মকর্তা আদালতের কাছে জবানবন্দিতে এই কথা স্বীকার করেছেন। তিনি প্রশ্নপত্রে ফাঁসে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিজেও প্রশ্নপত্র ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে এসব প্রশ্নপত্র বাণিজ্য চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেকে ঘিরেই।

পাবলিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় প্রশ্নপত্র। শতভাগ কমনের নিশ্চিয়তা দিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি হয় এসব প্রশ্ন। বিভন্ন গ্রæপের সাথে সম্পর্কই বয়ে আনে প্রশ্নের এসব লোভনীয় অফার। কড়া নিরাপত্তাতেও কীভাবে এসব প্রশ্ন বাইরে আসে? বিজি প্রেসের এক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের জবানবন্দিতে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসে।

আলমগীর বিজি প্রেসে কম্পোজার হিসেবে কাজ করেন। তার জবানবন্দিতে জানা যায়, এক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতেন। সব প্রশ্ন মুখস্থ রেখে বাসায় বসে কম্পোজ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে ছাড়িয়ে দিতেন। আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১১ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, বিজি প্রেস বা অন্য যেকনো প্রেসে যখন প্রশ্নপত্র ছাপা হয় তখন গেঞ্জির সঙ্গে ছাপ দিয়ে বা বিভিন্ন কৌশলে প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস করে। এর আগে বিজি প্রেসের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এরকম সংশ্লিষ্টতা পেয়েছিলাম।

শুধু বিজি প্রেসের কর্মকর্তাই নয়, প্রশ্নপত্র ফঁসের সাথে জড়িত আছে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও কিছু কোচিং সেন্টার। পুলিশ জানায়, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন স্কুলে পাঠানো স্কুলের ছবি মোবাইলে ধারণ করে তা পাঠিয়ে দেয়া হয় চক্রের সদস্যদের হাতে। সেখান থেকে তা চলে যায় শিক্ষার্থীদের কাছে। বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা।

গোয়েন্দারা সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁস চক্রের আট সদস্যকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজন কমলাপুর শের-ই-বাংলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। তিনি জ্ঞানকোষ নামের একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক। গোয়েন্দারা আটককৃত সদস্যদের কাছ থেকে এসব তথ্য পায়।

এ প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান বলেন, অন্যান্য কোচিং সেন্টারগুলোও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জাড়িত আছে কিনা আমরা সেগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছি। এরইমধ্যে আমরা কিছু নাম পেয়েছি। আমরা তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রেখেছি। আমরা আশা করছি যদি তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারি তাহলে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে গ্রেফতার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সহায়তা প্রত্যাশা করছি।

একাত্তর টিভি

Comments are closed.