আলু তোলায় ব্যস্ত কয়েক হাজার নারী শ্রমিক

বেশিরভাগই এসেছেন উত্তরবঙ্গ থেকে
কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপুঃ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুরানদাহ গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র দাস ও তার স্ত্রী রূপসী রানী দাস। ৫ বছরের আরতী রানী ও ৭ বছরের গৌরী রানীকে নিয়ে ১৫ দিন ধরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ গ্রামে আলু উত্তোলন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই এখন শ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন রৌদ্রের প্রখর তাপের মধ্যে জমি থেকে আলু উত্তোলন করছেন। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আলু উত্তোলন কাজে মজুরি হিসেবে পাচ্ছেন জনপ্রতি ৫০০ টাকা। স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে প্রতিদিন আয় করছেন এক হাজার টাকা। আর এ কাজ করতে তারা উপজেলার ধামারণ গ্রামের নারায়ণ মিস্ত্রির বাড়িতে ৮০০ টাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছে। তাদের মতো আরও এক দম্পতি নন্দ কুমার দাস ও শ্রীমতি হোসনা রানীও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে একই গ্রামের বিল্লাল মাদবরের বাড়িতে ভাড়া থেকে আলু উত্তোলন কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এই দুই দম্পতির মতো রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পুরুষ-নারী শ্রমিক মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষকের সঙ্গে চুক্তিতে, আবার দিন হিসেবে আলু উত্তোলন কাজে যুক্ত। তাদের বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গ থেকে এসেছেন।

ধামারণ গ্রামের কৃষক মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার সমকালকে জানান, এবার তিনি ৬০০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করেছেন। এখন তিনি রোপণ করা আলু উত্তোলন এবং বাড়ির উঠানে পেঁৗছে দেওয়ার কাজে গাইবান্ধা জেলার ১০ পুরুষ-নারী শ্রমিককে গণ্ডাপ্রতি ৫০০ টাকা হারে চুক্তি দিয়েছেন। শুক্রবার দিনভর তারা ১০ গণ্ডা জমির আলু উত্তোলন করেছেন। সেই হিসাবে জনপ্রতি তাদের পারিশ্রমিক পড়েছে ৫০০ টাকা হারে। কৃষক সাহাবুদিন হাওলাদার আরও জানান, এখনও ৫৯০ শতাংশ জমিতে আলু উত্তোলন কাজ রয়ে গেছে। মার্চজুড়েই আলু তোলার কাজে শ্রমিকদের নিয়ে জমিতে তদারকির কাজে থাকতে হবে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিকের সঙ্গে তার বাড়ির গৃহিণী ও শিশুরা জমি থেকে আনন্দের সঙ্গে আলু তুলছেন।

ধামারণ গ্রামের কৃষক বাবুল শেখ জানান, তিনিও তার জমিতে রোপণ করা আলু তুলতে উত্তরবঙ্গের শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকের সংখ্যা কম হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের আলু উত্তোলনে প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ১৫ থেকে ২০ জন দলভুক্ত হয়ে জেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আলু তোলার কাজ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আল মামুন সমকালকে জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৭৮ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার সদস্য কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। এ বছর জেলায় ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *