ব্র্যান্ডের পুরনো বস্তায় নিম্নমানের চাল বাজারজাত

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে একটি চক্র সুনামী প্রতিষ্ঠানের পুরনো বস্তায় নিম্নমানের চাল ভরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মূল ব্যবসায়ীরা আর প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শেরপুরের হরিন, গরুর গাড়ি ও চাকা মার্কার বিভিন্ন ধরনের চাল বিক্রি করে থাকেন নারায়ণগঞ্জের পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায় এসব চাল। এ তিন ব্র্যান্ডের কম মূল্যের চাল বিশেষ করে লতা চাল বেশ জনপ্রিয়। এই চাহিদার অসদ্ব্যবহার করছে নিতাইগঞ্জের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চক্র।

চাল ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, চক্রটি এ তিন ব্রান্ডের চালের পুরনো বস্তা কিনে মুন্সিগঞ্জের কমলাঘাট থেকে কঙ্কর ও মরা চালযুক্ত নিম্নমানের লতা চাল কিনে বাজারজাত করছে। চাল লালচে দেখানোর জন্য তাতে মেশানো হয় রঙ। ভাই ভাই রাইস এজেন্সির মালিক সোহেল, শাহজালাল রাইস এজেন্সির মালিক আওলাদ হোসেন ও মিজান রাইস এজেন্সির মালিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

শেরপুরের চালে কঙ্কর খুব কম এবং মরা চাল প্রায় নেই উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, তুলনামূলক পুরনো হওয়ায় এই চালে ভাত বাড়ে। নিজেদের সুনাম রক্ষার জন্য এসব ব্রান্ডের মালিকরা চাল কিছুদিন মজুদ রেখে কিছুটা পুরনো করে বাজারজাত করেন, যা মুন্সিগঞ্জের চাল ব্যবসায়ীরা করেন না। এসব কারণে শেরপুরের এ তিন ব্র্যান্ডের চালের মূল্য মুন্সিগঞ্জের একই চালের চেয়ে পাইকারি বাজারেই বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি।

প্রতারকচক্রের কারসাজির কারণে ব্র্যান্ডের চালের দাম দিয়ে নিম্নমানের চাল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। অন্যদিকে এসব ব্রান্ডের মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সুনামও নষ্ট হচ্ছে তাদের ব্র্যান্ডের।

চাকা ব্র্যান্ডের চাল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ রাইস মিলের মালিক শেরপুরের হায়দার আলি বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি এ ব্যাপারে এর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করি। পরে পুলিশ তদন্ত করলে নারায়ণগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে মাফ চান। আমিও বিষয়টি নিয়ে আর আগাইনি। কিন্তু এখনো প্রতারণা থামেনি।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্যাব-এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান কার্যকরী সদস্য অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, এটি ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা পরস্পরের প্রতি দোষ চাপান। ভাই ভাই রাইস এজেন্সির মালিক সোহেল মুন্সিগঞ্জ থেকে চাল আনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি একসময় এটি লোকাল চাল মনে করে মুন্সিগঞ্জের কমলাঘাট থেকে এনেছি। পরে এটি শেরপুরের ব্র্যান্ডের চাল জানতে পেরে আনা বন্ধ করে দিয়েছি।’

শাহজালাল রাইস এজেন্সির মালিক আওলাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব ব্র্যান্ডের চালের ব্যবসা করেন না। মিজান রাইস এজেন্সিকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু চাল কিনেছিল। তারা মুন্সিগঞ্জ থেকে চাল কিনে নিতাইগঞ্জের পুরনো ছালার মার্কেট থেকে বস্তা কিনে বাজারজাত করে। এ নিয়ে থানায় কমপ্লেইন উঠলে ১০-১৫ দিন আগে ওসি সাহেব তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ওসি সাহেব বিচার করে বিষয়টা শেষ করে দেন।’

মিজান রাইস এজেন্সির মালিক মিজানুর রহমান মুন্সিগঞ্জ থেকে চাল কেনার কথা স্বীকার করলেও পুরনো বস্তার ব্যাপারে তাদের কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মুন্সিগঞ্জ থেকে চাল কিনি। ওরা আমাদের পুরনো বস্তায় চাল দিয়ে বিপদে ফেলেছে। এটা আমাদের দোষ না। এটা মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়ীদের দোষ।’

অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আগে একবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিলে চাল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই প্রতারণা বন্ধ করার। কিন্তু এর পরও যেহেতু একই অভিযোগ উঠছে, এখন আমরা আবার এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

ঢাকাটাইমস

Comments are closed.