মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা

মুক্তিযোদ্ধাদের যাঁচাই বাঁছাই কার্যক্রমের শেষদিন (ভাষার মাসেরও শেষ দিন) ২৮/০২/২০১৭তারিখে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সুমাইয়া জাহানের আহবানে যাঁচাই বাঁছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে সদর উপজেলাধীন সকল পয্যায়ের মুক্তিযোদ্ধারা সদর উপজেলায় প্রাঙ্গনে সমবেত হন।

সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধা নিজ নিজ ফরম পূরন করে নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সার্কুলারমতে ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত তালিকার মুক্তিযোদ্ধারা পূরনকৃত ফরম জমা দিয়ে বাড়ীতে চলে যান। আর এই দুই তালিকায় নাম নেই অন্যান্য তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধারা যাঁচাই বাঁছাই কার্যক্রমে অংশ নেন।

যাই হউক সমবেত মুক্তিযোদ্ধারা নিজ নিজ গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিলিত হয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন। অনেককে পুড়ানো সহযোদ্ধাকে বুকে নিয়ে কাঁদতেও দেখা যায়, কেহ এক সাথে চা পান করে, কেহ ছবি তুলে, কেহ মুক্তিযুদ্ধের সৃতিচারন করে নিজের আবেগ অনুভ’তির প্রকাশ করেন।

সদর উপজেলা প্রাঙ্গন যেন একাত্তরের রনাঙ্গনে পরিনত হয়।যাহা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

একসময় মুক্তিযোদ্ধারা যে দৈন্যতার মধ্যে জীবনযাপন করতো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিবেচনায় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ১০,০০০/০০(দশ হাজার) টাকা করে সরকারী ভাতা পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের দারিদ্রতা অনেকাংশে কমে গেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা আশা করছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাক হানাদারদের পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল। সেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানে সব কিছুই করবেন, আজ মুক্তিযোদ্ধাদের নূন্যতম বয়স ৬০/৬৫ আর কতো দিনই বাঁচবে,তাই বাকী জীবনটা যাতে মুক্তিযোদ্ধারা মোটামোটি ভালভাবে থাকতে পারে, এইটুকুই কাম্য, আজ যেমন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া যায় না, মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায় না তেমনী কিছু দিন পর শত চেষ্টা করলেও একজন মুক্তিযোদ্ধার দেখা মিলবেনা। সরকারী ভাতা যাহা-ই দেওয়া হোক না কেন,সেই টাকায় যেন মুক্তিযোদ্ধারা পরিবার সমেত সুখে-শান্তিতে থাকতে পারে- সেই বিষয় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সদয় থাকবেন এটাই মুক্তিযোদ্ধাদের কামনা।

যাই হোক যেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আহবানে, সমবেত হয়েছিল, একাত্তরের সহযোদ্ধাদের সাথে দেখা করতে পারলো, এই জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।তবে প্রতি বৎসর যদি মার্চ মাসের কোন একদিন উপজেলা প্রাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমবেত করেন, সহযোদ্ধাদের সাথে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ করে দেন,এক কাপ চা-পানে আপ্যায়ন করেন,তাহলে আমরা কৃতার্থ হবো- আমার বিশ্বাস আপনি পারবেন কারন আপনি যে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান,আমাদের মাঝে যে আপনার পিতাকে খুঁজে পান।

সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর

Comments are closed.