কেওয়ার বদ্ধভূমি

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল: ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ঢেউ কেওয়ার গ্রামেও লেগেছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে জীবন বাজী রেখেছিল এ গ্রামের গোলাম মর্তুজা চৌধুরী রাজা, সুলতান বেপারী, আবুৃল মাকসুদ অরুন, মোঃ হানিফ মোল্লা, মিন আল ঢালী সহ অনেকে। মুন্সিগঞ্জ শহরের ৩ কি.মি. দক্ষিণে কেওয়ার গ্রাম। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কেওয়ার গ্রামের পাশে চৌধুরী বাড়ীর বাজারে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বহু লোক। বাড়িটি ছিল উপেন্দ্র চৌধুরী ও কেদার চৌধুরীর।

১৪ মে ১৯৭১ সাল। এ দিনটিতে ঘটে যায় মুন্সিগঞ্জের কেওয়ার ও মহাকালী গ্রামের সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা। ওই বাড়ির কেদার চৌধুরী সহ ১৮ জনকে ধরে নিয়ে যায় পাক সেনারা। নিয়ে আসে কেওয়ার সাতানিখীল খালেরপাড়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে ১৭ জন বাঙালী সন্তানকে। ভাগ্যগুণে বেঁচে যান সুভাষ সাহা। এখনো বেঁচে আছেন বাস করছেন মুন্সিগঞ্জ শহরের গোয়ালপাড়ায়। ১৪ মে ১৯৭১ সালে কেওয়ার বদ্ধভূমিতে যাদের হত্যা করা হয় তাদের নাম হলো- শংকর ভূঁইমালী, ননী ভূঁইমালী, বিষ্ণুপদ ভূঁইমালী, হারান পাল, বৈকুন্ঠ পাল, বানছারাম পাল, দেবাশিষ পাল, কেদার চৌধুরী, ডাঃ সুরেন্দ্র সাহা, অজয় চন্দ্র সাহা, দিজেন্দ্র সাহা, অনিল চ্যাটার্জী, সুরেন্দ্র ভট্টাচার্য্য, বাদল ভট্টাচার্য্য, নসু ঠাকুর, সতীন্দ্র মুখার্জী ও সুনির্মল মুখার্জী। কেওয়ার গ্রামবাসী এই সকল শহীদদের স্মরণে রাখবে চিরকাল। কেওয়ার বদ্ধভূমিকে চিহ্নিত করা হলেও এখনো কোন সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। যার কারণে এখানে কোন শহীদদের নামের স্মৃতিফলক নেই।

তথ্য : ১৪ মে বেঁচে যাওয়া সুভাষ সাহা
প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্য প্রদানকারী : আবু শেখ ও পচা ঢালী

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Comments are closed.