পারি দিতে হয় ৭০ কি.মি.: মুন্সীগঞ্জ হতে গজারিয়া

মুন্সীগঞ্জ রুটে ট্রলারে করে জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। যেকোন মুহূর্তে ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। আর সন্ধ্যার পর ট্রলার চলাচল বন্ধ করা হলে ৭ কিমি দূরত্বে যেতে চলতে হয় ৭০ কি.মি.।

জেলার ৬ টি উপজেলার মধ্যে জেলা শহরের পুর্বাঞ্চলের গজারিয়াকে মেঘনা নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বাকী ৫টি উপজেলা থেকে। মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের সরাসরি কোন যোগাযোগ না থাকায় অপর ৫টি উপজেলার ও গজারিয়াবাসীদের পোহাতে হচ্ছে যোগাযোগ ভোগান্তি।

মুন্সীগঞ্জের সাথে গজারিয়ার দূরত্ব ৭ কিমি। কিন্তু সামান্য দূরত্বে গজারিয়া আসতে সড়ক পথে পাড়ি দিতে ইচ্ছে প্রায় ৭০ কিমি ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ঘুরে। এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিন চালিত নৌকা। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চালু থাকে এই যগাযোগ ব্যাবস্থা। এই ট্রলার পথে জীবনের ঝুকি নিয়ে পাড়ি দিতে হয় উত্তাল মেঘনা নদী।

যেখানে প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে লঞ্চ ও ট্রেলার ডুবির মতো ঘটনা। সাথে রয়েছে নদীতে ডাকাতদের ভয়। প্রায় ১ বছর আগে মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়ায় পানি শোধনাগার প্রকল্প উদ্বোধনকালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গজারিয়া মুন্সীগঞ্জ নৌ পথে ফেরি চলাচল চালু করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু প্রধান মন্ত্রী নির্দেশের একবছর পার হয়ে গেলেও উক্ত কাজের কোন বাস্তবায়নের লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। একই লক্ষে ২০০৭ সালে গজারিয়া সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপণের উদ্দেশ্যে দুপাশে মেঘনা নদী পর্যন্ত সড়ক পথ নির্মাণ করা হয়। ফেরির অভাবে এলাকার ব্যাবসা বাণিজ্য কৃষিপণ্য দ্রত বাজারজাতকরন ও প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জেলা সদর ও গজারিয়াতে চাকুরীরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আশা যাওয়ায় পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

তাই মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালুকরনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃনø কান্তি দাস জানান,ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের নিকটবর্তী আমার নির্বাচনী এলাকা একটি গজারিয়া। উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ নানান দিক থেকে অবহেলিত ও বঞ্জিত। জাতীয় সংসদ সদস্য নিবার্চিত হওয়ার পর এই এলাকার মানুষের বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যাবলী দূরীকরনে আন্তরিকভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

গজারিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী গজারিয়ার সাথে জেলা শহরের সরাসরি একটি যোগাযোগ ব্যাবস্থা। এর জন্য আমি নিরন্তন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ছিলাম। তিনি যেন একটি ফেরির ব্যাবস্থা করেন, মুন্সীগঞ্জের সাথে গজারিয়ার সংযোগ স্থাপনের জন্য।

তার প্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শাজাহান খান একটি ফেরি প্রস্তুত রেখেছেন কিন্তু যোগাযোগ অবকাঠামো এতই নাজুক এটি সন্দেহ রয়েছে কিছু অংশ অতি সম্পতিকালে সংস্কার হয়েছে বাকিটুকু হয়নি। যদি হয় তাহলে ফেরি সার্ভিসটি চালু করা যায়। রাস্তাঘাট এতটাই নাজুক গাড়ি চলাচল একান্তভাবে অনুপযোগী।

তাই আমি মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী তার কাছে আবেদন জানাবো গজারিয়া বাসীর দু:খ বঞ্চনা অবহেলা গচনের জন্য অতিবিলম্বে তিনি যেন ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক থেকে রাস্তাটি পুন: নির্মান ও সংস্কার কওে দেন।

বর্তমানে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়ক এবং ঔষুধ ও পোষাক শিল্প নগরীর কারনে গজারিয়া দেশের অন্যতম একটি গুরত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু মাত্র সরাসরি যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারনে দেশের গুরত্বপূর্ণ এই স্থানটির ব্যবহার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ।

বিডিলাইভ

Comments are closed.