শ্রীনগরে আলোচিত অলিউল্লাহর খুনীদের ফাঁসির দাবীতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে আলোচিত অলিউল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় খুনি স্ত্রীর ফাঁসি ও হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্যদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রবিবার বেলা এগারটার দিকে হাসাড়া বাসষ্ট্যান্ডে প্রায় সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষ একর্মসূচীতে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষিাভকারীরা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে প্রায় আধঘন্টা অবরোধ করে রাখে। পরে শ্রীনগর থানা পুলিশ ও হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ রাস্তা থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

গত সোমবার রাতে স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩২) তার স্বামী অলিউল্লাহকে বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন সকালে মাজেদা বেগম ঘরে স্বামীর লাশ রেখে শ্রীনগর থানায় এসে আতœসমর্পন করে। মাজেদার দেওয়া তথ্য অনুসারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান ওই দিন দুপুর বারটার দিকে উপজেলার পুটিমারা গ্রামের অলিউল্লাহর বসত ঘরের বারান্দা থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে এই খবর শুনে অলিউল্লাহর বৃদ্ধ পিতা ইদ্রিস মোল্লা (৯৫) একই দিন রাত ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে। পিতা-পুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এঘটনায় উলিউল্লাহর বড় ভাই মো ঃ আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে স্ত্রী মাজেদা বেগম, তার বাবা নুরু খলিফা ও দুই ভাই হাবিব এবং মাসুমকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি জানান,১৮ বছরের প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সকল অর্থ ও সম্পত্তি আতœসাৎ করার জন্যই মাজেদা তার বাপ-ভাইয়ের সহায়তায় পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।

অলিউল্লাহর বড় বোন জানান, চৌদ্দ বছর আগে হাসাড়া গ্রামের নুরু খলিফার মেয়ে মাজেদা বেগমের সাথে অলিউল্লাহর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাজেদা তার বাবা ভাইকে খুশি রাখতে গিয়ে স্বামীর সাথে কলহে জড়িয়েছে। অলিউল্লাহ ও মাজেদার তিন ছেলে মেয়েকে মানুষ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পরেছে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান জানান, অলিউল্লাহর স্ত্রী মাজেদা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া এই হত্যাকান্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments are closed.