নির্মাণের ২৫ বছরেও শিশুদের জন্য হয়নি পৌর শিশুপার্কটি!

মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসী ও শিশুদের একমাত্র বিনোদনের স্থান স্বপ্নের পৌর শিশুপার্কটি প্রায় ২৫ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে শিশুপার্কটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর আর আলোর মুখ দেখেনি। ধ্বংসস্তূপে পর্যবসিত শিশুপার্কটি এখন মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থল। এই শিশুপার্কটি আদৌ কোনোদিন আলো দেখবে কিনা তা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী।

জেলা প্রশাসকের সামনে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ঠিক পেছনে এবং এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে রয়েছে সার্কিট হাউজ, এলজিইডি ভবন, জেলা পরিষদ কার্যালয়সহ জেলার প্রধান-প্রধান কার্যালয়ের মাঝপথে রয়েছে এই শিশুপার্ক।

১৯৯৩ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই এই পৌর শিশুপার্কটির উদ্বোধন করেন। তার পরে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার খামখেয়ালিপনার কারণে ওই উদ্বোধন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়ে যায়।

২০০৬ সালে ৩০ এপ্রিল সাবেক তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনিস উদ্দিন মঞ্জুরের মধ্যস্থতায় শিশুপার্কটি পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখন তৎকালীন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের এবং ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়। প্রাথমিক চুক্তি অনুসারে শিশুপার্কটির নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য ওয়ান্ডারল্যান্ড প্রায় ২৫ বছরের জন্য মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা থেকে লিজ নেয়। নির্মাণ ও খেলার সামগ্রীসহ সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। ওয়ান্ডারল্যান্ড প্রতিবছর মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাকে ১ লাখ টাকা লিজ মানি দেবে। আয়-ব্যয়, লাভ-লোকসান আয়-ব্যয় বহন করবে ওয়ান্ডারল্যান্ড। তবে পার্ক নির্মাণের কি কি খেলনা সামগ্রী থাকবে সে সম্পর্কে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে।

এসব শর্ত মেনে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে ১.৫৮ একর জায়গা ১৯৯২ সালে মেসার্স ভায়া মিডিয়া টেন্ডার নিয়ে পৌরপার্কটির কাজ শুরু করে। ৪ বছর পর কোনো রকম কাজ শেষ হলেও দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলা করলে পার্কটি আর শুরু করা যায়নি।

অযতœ-অবহেলায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং দুর্নীতির কারণে পার্কটি পৌর শিশুপার্কটির সব খেলনা নষ্ট হয়ে যায়। পার্কটির নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মামলা হয়। মামলাটি এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

শিশুপার্কটির এই দৈন্যদশা সম্পর্কে জেলা শহরের ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম তাজরিয়ান বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি-দুর্নীতির কারণে জেলার একমাত্র বিনোদন স্থান পৌর শিশুপার্কটির উন্নয়ন হচ্ছে না। শিশুদের চিত্ত বিকাশ যদি না ঘটে তাহলে পরবর্তী জীবনের চিন্তাধারা সম্পূর্ণ সীমাবদ্ধ থাকবে।

মুন্সীগঞ্জ সদরের কেওয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ছাত্র শেখ নীসার আহমেদ নীড় বলে, আমার মা চাকরিজীবী, বাবা সাংবাদিকতা করেন। দুইজনই সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। সপ্তাহে শুক্রবার একটা ছুটির দিন আমরা কোথাও গিয়ে আনন্দ করতে পারি না। রাজধানী ঢাকায় বিনোদনের অনেক জায়গা থাকলেও মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা গিয়ে আনন্দ করা আমাদের সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই মুন্সীগঞ্জে একটা বিনোদনের জায়গা খুবই দরকার।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী ফয়সাল বিপ্লব জানান, এই পার্কটির নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়। বর্তমান অর্থবছরের শিশুপার্ক পুনর্নির্মাণের বিল পাস করা হয়েছে। এ পৌর শিশুপার্কটির নাম দেওয়া হবে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। আশা রাখি এ বছরেই আমরা এই পৌর শিশুপার্কটি সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো।

মু. আবুসাঈদ সোহান
নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *