পদ্মার চরে আলুর হাসি

একসময় যেখানে ছিল অথই পানি, সেখানে এখন আলুগাছের কচি পাতা। পদ্মার বুকে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আলু চাষ হয়েছে। পদ্মায় জেগে ওঠা চরের অংশ পড়েছে মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলায়। এখানে আলুর চাষ শুরু হয়েছে।

জেলার কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, পদ্মার চর মুন্সিগঞ্জের জন্য এখন আশীর্বাদ। চরে সাত হাজার হেক্টর জমিতে এবার আলুর চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ৩৫ মেট্রিক টন আলুর ফলন হচ্ছে চরের জমিতে। এবারও ফলন ভালো। এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, চরের জমি উর্বর। সে কারণে ফলনও বেশি।

চাষি মোহাম্মদ আলীর বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নে। তিনি চরে ৫ কানি (১৬০ শতাংশে ১ কানি) জমিতে আলুর চাষ করেছেন। এই চাষি বললেন, ১৯৮৮ সালের ভাঙনে তাঁর ঘরবাড়ি, জমি-জায়গা সবকিছু গ্রাস করে ফেলে। বহু বছর পানির নিচে ছিল এই জমি। ৮ থেকে ১০ বছর আগে সেই জমি জেগে ওঠে। কয়েক বছর ধরে সেই জমিতে তিনি আলুর চাষ করছেন।

চরের আলুখেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন এক চাষি।

চাষিরা জানান, এক মাস আগে পদ্মার চরে আলু রোপণ শুরু হয়। সরেজমিনে পদ্মার চরে দেখা গেল, আলুগাছের চারা এক হাতসমান লম্বা হয়েছে। চাষিরা খেতে পানি ছিটাচ্ছেন, কীটনাশক স্প্রে করছেন। অধিকাংশ আলুখেতে শ্রমিকদের আগাছা প​রিষ্কার করতে দেখা গেছে। শ্রমিক বাদল বলেন, তিনি কয়েক বছর ধরে চরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এখানে আলু ভালো হয়। ফলনও খুব ভালো।

পদ্মার হাসাইল চরে আলুখেতে তিন শিক্ষার্থী।

৮ জানুয়ারি টঙ্গিবাড়ী পদ্মার হাসাইল চরে গিয়ে দেখা গেল, ৩০ থেকে ৪০ জন ছাত্রছাত্রী আলুখেতের আল দিয়ে নদীর পাড়ের দিকে এগিয়ে আসছে। নদীর পাড়ে এসে নৌকার জন্য তাদের অপেক্ষা। সাজিদুল ইসলাম নামের এক ছাত্র বলল, সে থাকে চরে। তাঁর স্কুল হাসাইলে। তাই প্রতিদিন চর থেকে নৌকায় করে স্কুলে যেতে হয়। এই শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এখন চোখ যেদিকে যাবে, সেদিকে শুধু আলুগাছের চারা।

কৃষকেরা জানালেন, ছয়-সাত বছর আগে থেকে পদ্মার বানারী, ওয়াপদা, পাচন খোলা, আটিগাঁও, চরমান্দ্রা, ষোলপরান ও সাতক চরে আলুর চাষ হচ্ছে। লৌহজংয়ের চাষি শানু ইসলাম বলেন, চরে আলুর প্রচুর ফলন হয়। মুন্সিগঞ্জের অন্যান্য স্থানে প্রতি কানিতে ৫০০ মণ আলু হয়। কিন্তু পদ্মায় এক কানিতে আলু হয় ৭০০ মণ।

আলুচাষিদের ভাষ্য, সরকার যদি আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করত, তাহলে কৃষক অনেক বেশি লাভবান হতেন।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানা প্রথম আলোকে বললেন, মুন্সিগঞ্জের পদ্মায় জেগে ওঠা চরে প্রচুর আলু চাষ হচ্ছে। আলুর ফলন খুব ভালো। আলু চাষ করে কৃষকেরা অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন।

প্রথম আলো
আসাদুজ্জামান

Comments are closed.